Sunday, June 5, 2016

জগৎ শেঠের রত্নকুঠী - হেমেন্দ্র কুমার রায়

আমাদের কৈশোরের মুগ্ধ স্মৃতিতে 'হেমেন্দ্রকুমার রায়' নামটি অবিস্মরণীয় ভাবে জড়িয়ে আছে। তাঁর সৃষ্ট কিশোর গোয়েন্দা জয়ন্ত এবং মানিক আজকের ফেলুদা কিম্বা ব্যোমকেশ বক্সির সাথে জনপ্রিয়তায় প্রায় সমানে সমানে পাল্লা দিয়ে চলতো। জয়ন্ত-মানিকের বুদ্ধিদীপ্ত বিশ্লেষণ আর দারোগা সুন্দরবাবুর ভোজন-রসিকতায়  এই গোয়েন্দা গল্পগুলি ছিলো তখন আমাদের কাছে অত্যন্ত উপাদেয়। গল্পের মাঝে মাঝে সরস টিপ্পনি আর সুন্দরবাবুর হাস্যকর আচরণ তাদের আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছিলো। 

তবে গোয়েন্দা গল্প ছাড়াও হেমেন্দ্রকুমার রায় গা-শিরশির করা ভূতের গল্প এবং রোমাঞ্চকর সত্য কাহিনী রচনাতেও অস্বাভাবিক ধরণের দক্ষ ছিলেন, এবং সব রকমের কাহিনীতেই পাঠকদের মনোযোগ আগাগোড়া টেনে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। 

জগৎ শেঠের রত্নকুঠী - হেমেন্দ্র কুমার রায়
দেব সাহিত্য কুটীর - বই হিসাবে 
প্রথম প্রকাশ: বইমেলা, ২০০৮
এই উপন্যাসটি বহুবছর আগে মাসিক শুকতারা পত্রিকায় ১২টি পর্বে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিলো ১৩৭০-১৩৭১ সালে। তবে বই হিসাবে এটি প্রথম প্রকাশিত হয় দেব সাহিত্য কুটীর থেকে, 2008 সালের জানুয়ারী মাসের বইমেলায়। শুকতারায় প্রকাশিত কাহিনীতে ছবিগুলির অলঙ্করণ করেছিলেন নারায়ন দেবনাথ মহাশয়, তবে বই হিসাবে প্রকাশিত গল্পের ছবিগুলির অলঙ্করণ করেন অন্য কোনো শিল্পী (খুব সম্ভবত: গৌতম দাশগুপ্ত মহাশয়)। শুকতারাতে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত এই গল্পটি পাওয়া যাবে ইন্দ্রনাথের ব্লগে এ ছাড়াও পরবর্তীকালে হেমেন্দ্র কুমার রায়ের বিভিন্ন সমগ্রতেও এই কাহিনীটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।  

Trivia

বাংলার নবাবী আমলের বিখ্যাত ধন কুবের তথা পলাশি যুদ্ধের কুখ্যাত খলনায়ক জগতশেঠের বাড়ির প্রবেশদ্বার। মুর্শিদাবাদের লালবাগে রয়েছে এই বিখ্যাত বাড়ি। সাহিত্যিক হেমেন্দ্রকুমার রায় এই বাড়িটির পটভূমিতেই লিখেছিলেন "জগৎ শেঠের রত্নকুঠী" উপন্যাসটি।এই বাড়িতেই রয়েছে জগৎ শেঠের রাখা ধনরত্নের গুপ্ত কুঠুরি। যদিও এখন আর ধনররত্নের চিহ্নমাত্র নেই - তবে গুপ্ত কুঠুরিতে যাওয়াই যায়।

বর্তমান যুগের ক্ষুদে পড়ুয়াদের কাছে হেমেন্দ্রকুমার তেমন পরিচিত কোনো নাম হয়ত নন। সে'জন্যেই তাঁর সৃষ্ট এক অসাধারণ গোয়েন্দাকাহিনী এখানে একটু সহজভাবে, বই ফর্ম্যাটে তুলে ধরা হলো।


জগৎ শেঠের রত্ন্কুঠী  
(SIZE: 16 MB)




Saturday, May 28, 2016

Sherlock Holmes - Boscombe Valley Mystery


"A man is accused of murder! Can Holmes prove his innocence ?" 
James McCarthy is the only suspect in his father's murder. Yet Sherlock Holmes and James's childhood friend Alice Turner believe he is innocent. Can Holmes unveil the real story behind the murder in Boscombe Valley in time?

Sherlock Holmes and his helpful friend Dr. John Watson are fictional characters created by British writer Sir Arthur Conan Doyle. Doyle published his first novel about the pair, A Study in Scarlet, in 1887, and it became very successful. Doyle went on to write 56 short stories, as well as 3 more novels about Holmes's adventures --- The Sign of Four (1890), The Hound of Baskervilles (1902), The valley of Fear (1915).


Sherlock Holmes (Boscombe Valley Mystery)
Sherlock Holmes (Boscombe Valley Mystery)
Sherlock Holmes and Dr. Watson have become some of the most famous book characters of all time. Holmes spent most of his time solving mysteries, but he also had  a wide array of hobbies, such as playing the violin, boxing, and sword fighting. Watson, a retired army doctor, met Homes through a mutual friend when Holmes was looking for a roommate. Watson lived with Homes for several years at 221B Baker Street before marrying and moving out. However, after his marriage, Watson continued to assist Holmes with his cases.

The original version of the Sherlock Holmes stories are still printed, and many have been made into movies and TV shows. Readers continue to be impressed by Holmes's detective methods of observation and scientific reason.

~ ~ ~ * ~ ~ ~
Story Adapters: Murray Shaw and M. J. Cosson
Illustration: Sophie Rohrbach and HT Morrow


Pagan's Plight (67 MB)
   Sherlock Holmes
Boscombe Valley Mystery
   (Size: 22 MB)


Saturday, May 14, 2016

যাহা নাই (মহা)ভারতে, তাহা নাই ভারতে

কথায় বলে, "যাহা নাই (মহা)ভারতে, তাহা নাই ভারতে..." - সত্যি কি যে নেই মহাভারতে! আপামর জন-সাধারণের কাছে মহাভারত একটি মহাকাব্য, মানে দেবতাদের কিম্বা দেবাংশজাত নায়কদের নিয়ে লেখা কাব্য। যেহেতু এখানে দেবতারা আছেন, সুতরাং ব্যাপারটা নিশ্চয়ই ধর্মের। অজ্ঞানতার এমন নজির বোধহয় দুনিয়ায় খুব বেশি মেলে না। প্রাচীন ভারতের প্রযুক্তিবিদ্যা যে কতো বড়ো ছিলো তা অনুমান করা বড়ো সহজ কথা নয়। 'স্থাপত্য বেদ', 'সমরাঙ্গন-সূত্রধারা' প্রভৃতি গ্রন্থের প্রতি ছত্রে কতো যে প্রাযুক্তিক নির্দেশ লুকিয়ে আছে তা আজও আমাদের জ্ঞানচক্ষুর অন্তরালে রয়ে গেছে।   
 *  *  *  *  *  * 
... ... ...অর্জুনকে স্বর্গলোকে নিয়ে যাবার জন্যে ইন্দ্রের প্রকান্ড রথ এসেছে। বিমানটির বর্নণা দিতে ব্যাসদেব বলেছেন -- "এমন সময়ে মহামেঘের শব্দের তুল্য গম্ভীর শব্দে সমস্ত দিক পরিপূর্ণ করিয়া মেঘ্সমূহকে যেন বিদীর্ণ করিতে থাকিয়া এবং আকাশমন্ডলকে অন্ধকারশুন্য করিয়া মহাপ্রভাবশালী মাতলিসংযুক্ত ইন্দ্ররথ আগমন করিলো। সেই বিমানে  বায়ুর ন্যায় বেগশালী অশ্বাকৃতি দশহাজার  চালকযন্ত্র ছিলো, যন্ত্রগুলি নয়নার্ষক সেই দিব্য বিমানকে বহন করিতো..."  মাতলি অর্জুনকে বিমানে আরোহন করতে বলায় অর্জুন বললেন, "তুমি রথে উঠিয়া অশ্ব্গুলিকে স্থির করিলে পর ওই রথে আরোহণ করিবো। অর্জুনের সেই কথা শুনিয়া ইন্দ্রসারথি মাতলি সত্ত্বর রথে আরোহণ করলেন এবং রশ্মি দ্বারা অশ্বগুলিকে সংযত করিলেন"। মাতলি 'রশ্মি দ্বারা অশ্বগুলিকে সংযত' করলেন, এই ব্যাখায় একটা জিনিষ ভারী অদ্ভুত, সেটি হলো 'রশ্মি' - 'বল্গা' নয় কেন ? এক্ষেত্রে বুঝতে  হয়না যে রশ্মির অর্থ লাগাম নয়, আর অশ্বের অর্থও, ঘোড়া নয়। 


 *  *  *  *  *  * 
... ... ... অনেক পরীক্ষা, আর অধ্যাবসায়ের পর পান্ডুনন্দন অর্জুন পেয়েছিলেন 'পাশুপাত' অস্ত্র - যে অস্ত্র কিনা সকল অস্ত্রের প্রতিষেধক দিব্য অপ্রতিরোধ্য অস্ত্র। অস্ত্রটি যে কি পরিমান ভয়ঙ্কর তা বোঝাবার জন্যে মহাদেব বলেছেন -- "আমার এই অস্ত্র কখনো কোনো মানুষের উপর প্রয়োগ করিবে না। হীনতেজ বিপক্ষের উপর ইহা নিক্ষেপ করিলে সমস্ত জগৎকে ধ্বংস করিয়া ফেলিবে। শত্রুগণের দ্বারা অত্যন্ত পীড়িত হইলে, সেই প্রাণসঙ্কটে তখন আত্মরক্ষার জন্যে ইহার প্রয়োগ করিতে পারো। শত্রুগণের অস্ত্রসমূহকে প্রতিরোধ করিতেও সর্বদা ইহার প্রয়োগ করিতে পারো।   "এরপর বরুণ দিলেন "বারুণ  পাশ" - যম দিলেন "দন্ড  অস্ত্র" - কুবের দিলেন 'অন্তর্ধান' নামা প্রসিদ্ধ অস্ত্র। ইন্দ্রের কাছে পেলেন 'বজ্র' এবং অনান্য 'বৈদ্যুতিক অস্ত্র' এবং তা প্রয়োগের শিক্ষা। এতো সব দিব্যাস্ত্র সংগ্রহ করে অর্জুন ফিরে এলেন ভায়েদের কাছে। স্বভাবত:ই তাঁরা সেই সব অস্ত্রের ক্ষমতা একটু দেখতে চাইলেন - অর্জুন দেখাতে রাজীও হলেন। কিন্তু একটির প্রয়োগেই "পর্বতসমূহ বিদীর্ণ হইতে লাগিলো, বায়ুর প্রবাহ বন্ধ হইলো..." - নারদ তাড়াতাড়ি এসে বললেন, "হে অর্জুন, এই অস্ত্রগুলি লক্ষ্য ব্যতিরেকে কখনো প্রয়োগ করিতে নাই, আবার লক্ষ্য বর্তমান থাকিলেও নিজে অত্যন্ত সঙ্কটে  না পরিলে উহাদিগকে প্রয়োগ করিবে না। এই দিব্যাস্ত্রগুলি অনুচিতরূপে প্রয়োগ করিলে মহা অনর্থ হইবে। শাস্ত্রানুসারে এই অস্ত্রসমূহ শুধু সুরক্ষিত করিয়া রাখিলেই অস্ত্রগুলি বলবান থাকে ও সুখের কারণ হয়, ইহাতে সন্দেহ নাই। এইগুলি সুরক্ষিত করিয়া না রাখিলে ইহারা ত্রিলোকের নাশের কারণ হয়।" - সুতরাং প্রাচীন ভারতের প্রযুক্তিবিদ্যা যে কতো বড়ো ছিলো তা অনুমান করা বড়ো সহজ কথা নয়।

 *  *  *  *  *  * 

আজকের এই পোস্টে আমি সেই ছোটবেলাকার 'শিশু সাহিত্য সংসদ' থেকে প্রকাশিত 'ছবিতে মহাভারত' চিত্রকাহিনীটি তুলে ধরলাম। একসময় এর প্রতিটি পাতা প্রায় আমার মুখস্থ ছিলো - আশা করি আমার মতো অনেকেরই হয়তো এটিকে আবার করে পড়তে ভালো লাগবে। 


ছবিতে মহাভারত
(SIZE: 22.3 MB)




   

Saturday, April 30, 2016

The Girl Phantom by Bil Lignante

In 1962, something new happened for Phantom fans. Western Publishing presented Lee Falk's already popular newspaper strip adventures in an entirely different format. For this series, the art was created for the comic book, not the comic strip. Comic strips which had been originally drawn by the late Wilson McCoy were redrawn by Bill Lignante adding color and new perspectives. While McCoy made tight drawings using photographic reference, Lignante gradually added instances of dramatic angles and foreshortening and capitalized on the wider parameters of design offered by the shape of the comic book page.



A graduate of the Pratt Institute, Bill Lignante first became associated with The Phantom when he was asked to finish a strip which had been uncompleted at the time of Wilson McCoy's death in 1961. He then went on to draw the Sunday strip from August, 1961 to May 1962. He was hired to draw The Phantom for the comic books which were licensed by King Features Syndicate to Gold Key and King Comics.

He also did something controversial - showing the Phantom's eyes and putting bulges in his cowl where each ear would be. There was an unfounded rumor that Lee Falk had fired Lignante for showing the Phantom's eyes. In response to the rumor, he explained, "I am a realist and thought that if you were proposed to by a 400 year-old gorgeous queen, your eyes would pop out, and I showed them for that reason only. Other than that, it was easier not to draw eyes." Lignante said he never heard from Falk about his work and they only crossed paths at National Cartoonists Association functions.

Lignante's participation as an illustrator for "The Phantom" began in 1961 when Wilson McCoy died unexpectedly. Initially, Lignante used an occasional swipe from McCoy like the hero sitting on a skull throne with Devil at his side. After the obligatory transition period where the change of style was more gradual, keeping a sense of continuity, Lignante's easily identifiable style emerged. His ability to envision a scene from different vantage points served him well in his layouts for comics and was a useful ability for his career as an illustrator.

Lignante left comics to become a court room artist for ABC covering some high profile cases like the 'Charles Manson' case and the 'Sirhan B. Sirhan' trial. His ability to envision a scene from different angles and his quickly rendered pastel drawings showed a good likeness of courtroom events ina time when cameras were banned.

~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~ 

Synopsis:
In a story frame, The Phantom tells Diana of how one of his ancestors became ill. Fearing that the Phantom's absence would threaten jungle peace, his twin sister Julie took his place very successfully, but at last crooks discovered that she was "only" a girl. They tracked her to the Deep Woods and made away with some of the Phantom treasure. She recovers the treasure, but the crooks lose their lives in a waterfall through rejecting her instructions. Her brother never realizes her ruse.

Script: Dick Wood
Pencils: Bill Lignante
Inks: Bill Lignante 
Letters: Ray Holloway 

 
The Girl Phantom
 (Size: 12 MB)

Monday, April 25, 2016

নীহারিকা - ৫টি গল্প

বেশ কিছুদিন পরে ব্লগে ফেরা - কাজের চাপ ছাড়াও বেশ কিছু অন্য চাপের মধ্যে ছিলাম। চাপ থেকে মুক্তি পেতে ঠিক করলাম কিছুটা সময় নষ্ট করে ব্লগে একটা নতুন পোস্ট করেই ফেলা যাক !!   

ফেসবুক, ট্যুইটার আর হোয়াটস-অ্যাপের চক্করে আজকাল বড়ো থেকে মাঝারি কি ছোটো, কারুরই তেমন দম ফেলার ফুরসত নেই। সময় পেলেই সবাই নাকের ডগায় স্মার্টফোন এনে দু'হাতের আঙুলগুলো দিয়ে অনবরত: পুটুর-পুটুর করে কি যেন সব লিখে চলে। "চাঁদ দেখতে গিয়ে আমি তোমায় দেখে ফেলেছি"-র যুগ আজকাল চলে গেছে। এখন সব কিছু তো ফেসবুক আর হোয়াটস-অ্যাপেই আগে চলে আসে !

দেব সাহিত্য কুটীর (১৩৭২)

কিন্তু রাত-গভীরে নি:শব্দ আকাশে দৃষ্টির লাগাম ছেড়ে দিয়ে, চাঁদ তারা ছাপিয়ে, দূর থেকে আরো দূরে, সীমাহীন মহাশুন্যের অন্তহীনতা অনুভব করার মজাই আলাদা। মানুষ যে কতো ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র, নগণ্য, তা উপলব্ধি করার জন্যে পয়সা খরচ করে সমুদ্র বা পাহাড়ের কাছে যাবার দরকার নেই - নির্জন রাতের তারাভর্তি আকাশই যথেষ্ঠ।    
~ ~ ~ * ~ ~ ~

ক্লাস সেভেন কি এইটে পড়ি তখন - গ্রীষ্মের প্রচন্ড খরতাপে এক সপ্তাহ আগে থেকেই আমাদের স্কুলে ছুটি পড়ে গেছে। এর সাথে পাল্লা দিয়ে চলেছে লোডশেডিং। রাতে খাওদায়ার পাট চুকে গেলে ভাই-বোনেরা  সবাই মিলে ঠিক করলাম বাড়ির ছাদে মশারি টাঙিয়ে ঘুমাবো। সেই মতো অনেক কেরামতি, কসরত করে মশারির চারটে খুঁট কোনোমতে টাঙানো হলো। একটা চাদর আর কয়েকটা বালিশ এনে, ট্যারা-বাঁকা সেই মশারির মধ্যে শুয়ে আমরা ফিসফিস করে গল্প করে চলতেই থাকলাম। তারপর একসময় সব শুনশান - কেবল আমি আর তারাভর্তি আকাশ। ঘুম এসে কখন যে আমায় ভাসিয়ে নিয়ে গেলো তা টেরও পেলাম না। হঠাই অনেক রাতে ধড়মড় করে উঠে বসলাম - আকাশে আর কোনও তারা নেই। নিকষ কালো অন্ধকারে ছেয়ে গেছে গোটা আকাশটা - তার সাথে শুরু হয়েছে দমকা ঝড়ো বাতাস। মশারির দড়ি প্রায় ছিঁড়লো বলে - কালবৈশাখী আসছে সবকিছু তছন করে। আশেপাশে চেয়ে দেখি বাকী সবাই কে কখন ভেগে গেছে - পড়ে আছি শুধু আমি একাই !!  কোনোমতে চাদর আর মাথার বালিশটা বগলে চেপে আমিও দিলাম সিঁড়ির দিকে টানা এক দৌড় - মশারি রইলো পড়ে সেই ছাদেই।

সেই সব দিন চলে গেছে চিরকালের জন্যে - ফেসবুক, ট্যুইটার কি হোয়াটস-অ্যাপের হাজার কেরামতিতেও সেই সব অনুভুতি আর কখনও ফিরে আসবেনা। মাঝে মাঝে পুরানো দিনের বিস্মৃত-প্রায় কিছু গল্প পড়ি, আর নিজের মনে নিজেই চমকে উঠি সেই সব হারানো স্মৃতির আচমকা জাগরণে।


এই পোস্টে আমি এমনই কয়েকটি পুরানো দিনের গল্প তুলে ধরলাম দেব সাহিত্য কুটীরের "নীহারিকা" পূজাবার্ষিকী থেকে। আশা করি আমার মতো অনেকেরই হয়তো পড়তে ভালো লাগবে। 


নীহারিকা (৫টি গল্প)
(SIZE: 12.9 MB)




   

Monday, April 4, 2016

বিশ্বাসে মিলায়, তর্কে বহুদূর

ঈশ্বর আছেন কি না তা সত্যিই এক বড় রহস্যময় প্রশ্ন। জীবনে বহুবার এমন কিছু অসহায় পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছি যে মনে হয়েছে যে ঈশ্বরের সরাসরি হস্তক্ষেপ ছাড়া সেখান থেকে পরিত্রাণ পাওয়া আমার পক্ষে সম্ভবপর ছিলো না। আবার অন্যদিকে বহু জটিল পরিস্থিতিতে ঈশ্বরকে একমনে ডেকেও কোনো লাভ হয়নি। হয়তো বা আমার সেই ডাকের মধ্যে তেমন আকুলতা ছিলোনা, বা নিষ্ঠার অভাব ঘটেছিলো। 

ছোটবেলা থেকেই দেখে আসছি আমাদের বাড়িতে নিয়ম করেই দু'বেলা পূজা-আর্চা হতো। নিম্ন-মধ্যবিত্তের সংসারে পুজারী ব্রাহ্মণ ডেকে, মন্ত্র-উচ্চারণ সহ পুজা করার সামর্থ্য আমাদের ছিলো না। অগত্যা ফুল-দূর্বা-ভোগ সহযোগে, কাঁসর-শঙ্খধ্বনি ও ঠাকুর প্রণামের মধ্যে দিয়ে, কিছুটা অনাড়ম্বর ভাবেই মূলত: আমাদের বাড়ির পুজাগুলি সম্পন্ন হতো। সেই কারণেই কি না জানিনা, ছোটবেলায় তেমন কোনো বড়োস দুর্ঘটনা, বা অমঙ্গলের কালো ছায়া আমাদের পরিবারে দেখা দেয়নি। মা-পিসিমা বহুবারই বাড়ির ছাদের ঠাকুরঘরে 'অন্য কোনো এক কিছুর' উপস্থিতি লক্ষ্য করেছিলেন। আমার কপালে তেমন কিছু দেখার সৌভাগ্য না-ঘটলেও গভীর রাতে নূপুরের মিষ্টি-ধ্বনি সহযোগে অদ্ভুত সুন্দর, অপার্থিব কোনো এক কিছুর সুঘ্রাণ বহুবারই আমি ঘুমের মধ্যে উপলব্ধি করেছিলাম।   


'বিশ্বাসে মিলায় বস্তু, তর্কে বহুদূর...'

জীবনের মাঝপথে এসে বুঝেছি ঈশ্বরের অস্ত্বিত্ব যুক্তি দিয়ে বোঝা সম্ভব নয় - এটা এক শুধুই অনুভুতি মাত্র। যার মধ্যে ধর্ম নেই, মন্ত্র নেই, বাহ্যিক আড়ম্বর নেই  - আছে শুধু ঐ অনুভুতি। জাগতিক বাস্তব সমস্ত কিছুর বাইরে, অন্য কোনো এক কিছুর অস্তিত্ব। পোশাক, চামড়ার রং, উঁচু জাত-এর গাম্ভীর্য্য থেকে শুরু করে আমরা অনেক কিছু পরে আছি - আস্তরণের পর আস্তরণ দিয়ে আমরা ঢেকে আছি। এক এক রকমের অহংকারের পলেস্তরা ধীরে ধীরে আমাদের মধ্যে থাকা আসল 'আমি'কেই গ্রাস করে  ফেলেছে। সেই আস্তরণ, অহংবোধ থেকে মুক্ত না-হতে পারলে এ জীবনে ঈশ্বরের দর্শন সম্ভবপর নয়। 

ভক্তের মনোবাসনা পূর্ণ করার মানসে যুগে যুগে মানুষের পৃথিবীতে আবির্ভাব ঘটে ভগবানের। ভক্ত মানুষের আকুল প্রার্থণায় সাড়া দিয়ে ভগবান তার সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে লীলার প্রকাশ করেন। অসহায় বিপন্ন মানুষ ভগবানের সংস্পর্শে এসে জীবনকে পরিপূর্ণতার পথে এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহস পায়।

এই পোস্টে আমি এমনই দুটি গল্প তুলে ধরলাম যেখানে ভক্তের চরম বিপদে স্বয়ং ঈশ্বর সাহায্যের জন্যে এগিয়ে এসেছিলেন। বিশ্বাস-অবিশ্বাসের দায় রইলো পাঠকদের হাতে।


বিশ্বাসে মিলায়,
তর্কে বহুদূর
(SIZE: 7 MB)

ACK - Gopal and 
the Cowherd
(SIZE: 14.1 MB)



   

Saturday, April 2, 2016

'ফেরিওয়ালা' (The Peddler) - লাকি লুক( Book# 50)

ইন্দ্রজাল, টিনটিন, আর অ্যাস্টেরিকসের পর আর কোন ভালো কমিকস পড়া যায়, তা ভাবতে ভাবতে একসময় "লাকি লুক" পড়া শুরু করেছিলাম। এই সিরিজের সবকটা গল্পই যে দারুণ ভালো, তা কিন্তু নয় ঠিকই - তবুও এর স্ট্যান্ডার্ড অন্যান্য পপুলার হাসির কমিকসের থেকে অনেক বেশি উঁচু-তারে বাঁধা - অন্তত: আমাদের দেশের কমিকসদের থেকে তো বটেই ! আরও আশার কথা হলো যে এই সিরিজটি এখনও নিয়মিত ভাবে প্রকাশিত হয়ে চলেছে। 

বেলজিয়ান কমিকস আর্টিস্ট মরিসের (Maurise De Bevere, 1923-2001) আঁকা ছবিগুলির মধ্যে কথাবার্তা ছাড়াই গল্প বলার প্রবণতা লক্ষ্য করা যেতো, যার ফলে পাঠকের কাছে তাঁর আঁকা ছবিগুলো ঠিক যেন Movie-র ফ্রেম বলে মনে হতো --- চোখ দিয়ে দেখার মধ্যেই পাঠক বুঝে যেতো কি ঘটে চলেছে। 'Basic Four Color Tradition'-এর সীমাবদ্ধতার মধ্যে থেকেও যে কি অসাধারণ, রঙীন কমিকস আঁকা যায়, তা লাকি লুকের এই গল্পগুলি পড়লে বোঝা যায়।   

এই পোস্টে আশির দশকের লাকি লুকের তেমনই সাধারণ এক ছোট্ট গল্প বাংলায় অনুবাদ করার দু:সাহস দেখালাম - ভালো কি মন্দ তা পাঠকেরাই বিবেচনা করে বলতে পারবেন। 

ফেরিওয়ালা (The Peddler) - Book# 50

PLOT:
"The Peddlerগল্পের নামকরণ করা হলো 'ফেরিওয়ালা' - এই গল্পে মরিস পাঠকদের সামনে তুলে ধরেছেন এক দারুণ সুন্দর চরিত্রকে। 'Mr. W FlatShoe', ওরফে 'ঝুনঝুনওয়ালা', যিনি পণ্য ও বস্ত্র বিক্রি করে বেড়ান। ডাকাতরা যখন তাঁকে ঘিরে ফেলে লুঠপাঠ শুরু করেছে, ঠিক তখনই লাকি লুক সেখানে হাজির হয়ে তাঁকে বাঁচান। অত:পর কৃতজ্ঞতাবশত: তিনি লাকি লুককে ডিনারে আমন্ত্রণ জানান তার মজুদে থাকা নানান জিনিষপত্র সাজিয়ে। পরবর্তীকালে দেখা যায়, যে কোনও দুর্যোগের মোকাবিলা করার মতো সরঞ্জাম নিয়ে তিনি সর্বদাই প্রস্তুত। তিনি একাই এক দারুণ মজার চরিত্র। 

গোসিনি-মরিসের যুগলবন্দীতে যে কি নির্মল, সুন্দর গল্প সৃষ্টি হতে পারে তা পড়ে সত্যিই অবাক হয়ে যেতে হয়।    

Stats:
Script & Drawings: René Goscinny & Morris
Series: Lucky Luke - Book# 50 (Seven stories, 44 pages)
Original Release: 1986
Baundule (7 MB)
ফেরিওয়ালা- লাকি লুক 
   (Size: 9.5 MB)



Friday, March 25, 2016

পটলডাঙ্গার টেনিদা - নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়

"ডি-লা-গ্রান্ডি মেফিস্টোফিলিস - ইয়াক্, ইয়াক্ !!" ছোটবেলায় যে কতোবার পড়েছি, আর কতোবার আউড়েছি তা বলাবাহুল্য। কিশোর সাহিত্যের জগতে "টেনিদা" একটি অবিস্মরণীয় নাম। তোপসের "ফেলুদা" ছিলেন যেরকম সাহসী, বুদ্ধিদীপ্ত - পটলডাঙ্গার টেনিদা হলেন ঠিক সেরকমই গুলবাজ, পেটুক, আর ভীতু এক চরিত্র।

নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের সৃষ্ট এক অসাধারণ চরিত্র হলো "পটলডাঙ্গার টেনিদা"। বাংলা ভাষায় হাস্যরস নিয়ে বহু গল্পের বইই রচিত হয়েছে - ভবিষ্যতেও হবে। কিন্তু "টেনিদা" নামটা চিরটাকালই অবিস্মরণীয় হয়ে থাকবে। টেনিদার গল্পগুলোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হচ্ছে যে এখানে কোনো কষ্ট নেই, পুরোটাই নিখাদ হাস্যরসে আর নির্মল আনন্দে ভরপুর। কিশোরদের জন্যে লেখা নারায়ণ গঙ্গোপাধ্যায়ের প্রায় সব গল্পতেই হাস্যরসের মাত্রা লক্ষ্যনীয়, কিন্তু তার মধ্যেও টেনিদাকে নিয়ে লেখা উপন্যাস বা গল্পগুলোতে হাস্য-কৌতুকের মাত্রাটা আসলেই কূল-ছাপানো। 

পটলডাঙ্গার  টেনিদা এক আজব চরিত্র - সেটি এমনই অনন্য যে তাকে আর কারো সাথেই তুলনা করা যায় না। বারংবার পরীক্ষায় ফেল করার পরেও তার সেটা নিয়ে কোন আফসোস নেই। বরং সে গর্ব করে বলে, "পাশ তো সবাই করে যায় কিন্তু ফেল কয়জন করতে পারে ?" আবার ভোজন রসিক, ওরফে 'পেটুক' টেনিদার মতো খাইয়ে চরিত্র বাংলা সাহিত্যে খুব কমই দেখা যায়। একদমে গোটা আটটা সিঙ্গারা খাওয়া, কিম্বা খান তিরিশেক পিঠে-পুলি হজম করে ফেলা টেনিদার কাছে কোনও ব্যাপারই নয়। আর যখন বিপদ সামনে থেকে চলে যায় তখনই টেনিদার আসল সাহসের পরিচয় পাওয়া যায়। কিন্তু বিপদের সময় তার সব সাহস উধাও। লেখনীর মধ্যে হিউমারের অ্যাতো সার্থক এবং স্বতস্ফুর্ত ব্যবহার খুব কম লেখকের লেখাতেই দেখা যায়।

প্রথম প্রকাশ: ফাল্গুন ১৩৭৭ (বেঙ্গল পাবলিশার্স)

নগর জীবনে হাজার ব্যস্ততার ভিড়ে আজ আমরা প্রায় হাসতেই ভুলে গেছি। সারাদিন শুধু কাজ, টেনশান, আর হরেক রকমের ব্যস্ততা। তা সেই মেকি ব্যস্ততার ভিড়ে কিছুটা সময়ের জন্যে হলেও নির্মল আনন্দের বড়োই প্রয়োজন - আর সেটা সু-সাহিত্য ছাড়া কেইই বা আমাদের যোগান দিতে পারে ?

মাত্র ২০ টাকা দিয়ে সেকেন্ডহ্যান্ড এই বইটি আমি কিনেছিলাম আমাদের পাড়ার বইমেলা থেকে। এর মধ্যে প্রকাশিত গল্পগুলি ইতিমধ্যেই বিভিন্ন বইতে বা সংকলনে অন্তর্ভুক্ত হয়ে গেছে। কিন্তু মনে হয়না যে আদি সংস্করণ থেকে সেগুলি পড়ার সুযোগ খুব বেশি কেউ পেয়েছেন। এই পোস্টে সেই দূর্লভ বইটি থেকে দারুন মজাদার পাঁচ-পাঁচটি গল্প আপলোড করা হলো। T20-র উইকেন্ডে আসুন আবার সবাই একটু প্রাণ খুলে হাসি, আর "মওকা, মওকা" গেয়ে ইন্ডিয়াকে সেমিফাইনালে তুলে দিই !!!


পটলডাঙ্গার টেনিদা
(SIZE: 16.5 MB)




Friday, March 18, 2016

A Tribute to Harry Lucey, a forgotten artist

Like so many of the other men who entertained generations of children, Harry Lucey remains as anonymous in death as he was in life.

Born in 1913, Lucey graduated from Pratt University in 1935 as an illustrator, and his career in comics began in the late 1930s. He bounced around various companies in the 1940s, drawing such characters and features as Madam SatanMagnoCrime Does Not Pay, and even, for a handful of issues, Captain AmericaHe worked with Bob Montana in a studio on Union Square (New York) in the early 1940s prior to their induction into the army. Lucey and Montana graphically created the characters in the 'Archie' comic series. 

 Sam Hill, the 'Private Eye' series
During World War II, Lucey, along with Montana, worked as photo interpreters and map makers in Colorado Springs, Colorado. When he was discharged from the army in St. Louis, Missouri, he began doing magazine and other types of illustration for Ralston Purina and Burts, Bakers, and Chandler's Shoes. He eventually moved back to New York with his family, and was re-employed by Archie Comics Publications in 1949. Lucey was one of the regular 'Archie' comic book artists from the 1950s to the 1970s. 

In most years Lucey penciled and inked a page a day, often drawing the complete contents of the Archie comic book every month in the late 1950s and early 1960s.

Lucey’s work is distinguished by his close attention to the body language, or acting, of every character he drew. Each aspect of a Lucey figure is drawn to express what that character is feeling at that moment. Posture, position and facial expression are all geared toward maximizing that moment in the story, and Lucey was equally dedicated to refining the depiction of action with a minimum of lines.

The Private Eye Series
The character Sam Hill, an “Ex Ivy League halfback” private eye with a white streak in his hair, is rendered with loving precision and an acute attention to detail. Lucey was certainly influenced by film noir’s expressionist angles. The sixth page of The Cutie Killer Caper contains six panels, all drawn from a different angle — from below Sam Hill to over a cop’s shoulder, to above Hill and the cop, and finally to a level over-the-shoulder shot from behind Hill.

Lucey never returned to Sam Hill after his final issue, and toward the 1960s he developed an allergy to graphite, reportedly wearing white gloves while drawing. In the 1970s he was diagnosed with Lou Gehrig’s disease and, sometime later, cancer. He refused treatment for the latter and died in Arizona in August, 1984 (based on Ancestry.com search from all these complications.

Read here two vintage detective stories of Sam Hill adventures... Happy Weekend...

Sam Hill's Adventures
(Size: 14.6 MB)



Saturday, March 12, 2016

ওস্তাদের মার - রাজকুমার মৈত্র

"আমপাতা জোড়া জোড়া,
  মারবো চাবুক ছুটবে ঘোড়া   
ওরে বিবি সরে দাঁড়া    
আসছে আমার পাগলা ঘোড়া -
পাগলা ঘোড়া  ক্ষেপেছে ,  
বন্দুক ছুঁড়ে মেরেছে -
অল রাইট ভেরি গুড,       
সাহেব খায় চা-বিস্কুট" 
(প্রচলিত)  


"ছোটবেলা" মানেই অনেক কথা, অনেক স্মৃতি - বেশীরভাগই অনাবিল সুখের স্মৃতি, যার বেশ কিছু অংশ জুড়ে আছে হরেক রকমের গল্পের বই, আর অবশ্যই মোটা মোটা দেব সাহিত্য কুটিরের পূজাবার্ষিকী।

সারাটা বিকেল মাঠ চষে ধুলো মেখে খেলার পর সন্ধ্যে গড়িয়ে গেলে আমরা দঙ্গল বেঁধে হাজির হতাম "হরির লুঠের" বাতাসা লুঠতে। গোবরজল দিয়ে মোছা ঝকঝকে তকতকে, পরিষ্কার উঠোনের চণ্ডী-মণ্ডপটার সামনে বেতের ধামা-বোঝাই বাতাসা নিয়ে বন্ধুর ঠাকুমা থাকতেন দাঁড়িয়ে। আর তাঁর পিছনেই অধীর আগ্রহে থাকতো এক দঙ্গল উঠতি ছেলেদের দল, অর্থাৎ আমরা, যে-যেখানে পারি যেমন ভাবে - কেউ উবু হয়ে, কেউ দাঁড়িয়ে বা বসে, কেউ আবার বসা আর দাঁড়ানোর মাঝামাঝি এক হাস্যকর অবস্থায়.... হাততালি সহযোগে হরিগানের পালা শেষ হতেই আকাশ থেকে যেন ফুলঝুরির মতো করে ঝরে পড়তো ছোট-বড়ো-মাঝারি, নানান সাইজের রসালো বাতাসার ঝাঁক - মুহূর্তের মধ্যেই আমরা পাগলের মতো কুড়োতে লেগে যেতাম, চোখের পলক না-ফেলেই আমরা একে-ওকে ঠেলে-ঠুলে, যে যেক'টা পাই হাতে-পকেটে-মুখে ভরে ফেলতাম। ধুলোভর্তি হাতে খাদ্য-দূষণের প্রহেলিকা তখনও আমাদের মাথাতে আসেনি, আর তাছাড়া হরির লুঠের বাতাসায় আবার দূষণ কি !!

সেই একই রকম সমস্যার মুখোমুখি হতাম যখন কপাল গুণে পূজার সময় বাড়ীতে দেব সাহিত্য কুটিরের পূজাবার্ষিকী আসতো চলে। কে আগে পড়বে, কেন আগে পড়বে, কোন গল্প আগে পড়বে সেই নিয়ে ভাই-বোনেদের মধ্যে মোটামুটি একটা খণ্ডযুদ্ধ শুরু হয়ে যেতো !! বাবার হাঁকুনি সময়মতো না-আসলে হয়তো গোটা বইটাই খণ্ড খণ্ড হয়ে যেতো!! তা, সেই রাজাও আর নেই, রাজত্বও আর নেই - পড়ে আছি শুধু আমি, একরাশ স্মৃতি আর বেশ কিছু হারানো দিনের বিবর্ণ হয়ে যাওয়া বইদের নিয়ে। 

'বগলা মামা' সিরিজের শেষ গল্প পড়তে গিয়ে 'মণিহার' পূজাবার্ষিকী হাতে করে সেই সব দিনগুলোর কথাই খুব বেশী করে মনে পড়েছে। এই গল্পটি নিয়ে এই ব্লগে আমি সর্বসমেত ১৩টি বগলা মামার অ্যাডভেঞ্চার ব্লগ-পাঠকদের সামনে তুলে ধরলাম। আমার জানা মতে আর কোনও 'বগলা মামা'-র গল্প প্রকাশিত হয়নি - তবে দেব সাহিত্য কুটিরের সবক'টি পূজাবার্ষিকী এখনও আমার নেই - আর তাই দুরাশা আছে যে আমার সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত করে কেউ একজন নিশ্চয় এখানে জানাবে যে আরও কিছু 'বগলা মামা' রয়ে গেছে আমাদের মাঝে।

'মণিহার' পূজাবার্ষিকী (১৩৭৭)
~ ~ ~ ~ ~ 

বগলা মামার গল্পের সাথে ফাউ হিসাবে রইলো আরও দুটি গল্প। প্রথমটি  হলো স্বপনবুড়ো-র লেখা "রুমমেট" - আর দ্বিতীয়টি হলো শৈল চক্রবর্তীর লেখা হাসির গল্প "বাবল বাবল"। দুটি গল্পই একসময় আমার পড়তে বেশ ভালো লাগতো - এখনও লাগে। আশা করি বাকীদেরও নিশ্চয় ভালো লাগবে...

'মণিহার' পূজাবার্ষিকী (১৩৭৭)

হার্ড বাইন্ডিংয়ের জন্যে স্ক্যান করতে গিয়ে বইটির দু-পাতার মাঝের অংশের লেখা কিছুটা ঝাপসা, আর এঁকেবেঁকে হয়ে গেছে - কিন্তু গল্পের কোয়ালিটির তুলনায় সেই সামান্য ত্রুটি আশা করি পাঠকদেরকে তেমন বিব্রত করে তুলবে না। বইটিকে সময়মতো বাঁধিয়ে ফেলায় এখনও অবধি পঠনযোগ্য অবস্থাতেই রয়ে গেছে, কিন্তু দুঃখের কথা, বইটির কভার পেজটিকে আর ধরে রাখা সম্ভব হয়নি। 




ওস্তাদের মার ও অন্যান্য  
(Size: 14 MB)