Friday, August 12, 2016

অজানা টিনটিন - অজগরের মুখোমুখি

ছবির গল্প পড়ে ভয় পাওয়ার ব্যাপারটা প্রথম শুরু হয়েছিলো টিনটিনের "মমির অভিশাপ"-এর সেই দুর্ধর্ষ চরিত্র 'রাসকার কাপাক"-কে দেখে। সেই সময়ে ঘুমের মাঝেও অনেকবার (দু:)স্বপ্ন দেখে চমকে গিয়ে জেগে উঠতাম। মন্ত্রবলে মানুষকে অবশ করে দেওয়ার ঘটনা অবশ্য বেতালের (তান্ত্রিক হুগান) কাহিনীতেও আছে, কিন্তু সেখানে গা-ছমছমের কোনও ব্যাপার ছিল না। ময়ূখ চৌধুরীর "আগন্তুক" পড়েও কিছুটা রোমাঞ্চ জেগেছিলো, কিন্তু সেটা রাসকার কাপাকের মতো করে নয়। ইনকাদের প্রতি নতুন করে আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছিলো টিনটিনের "সূর্য্যদেবের বন্দি"।       

ছোটবেলায় টিনটিন পড়তে গিয়ে "Ligne Claire" বলে যে কোনও কিছু থাকতে পারে সে বিষয়ে কোনও ধারনাই ছিলো না। কারণ গল্পগুলো অ্যাতোটাই টানটান আর আকর্ষণীয় ছিল যে কমিকস পড়ছি বলে মনেই হতো না। অনেকে বলেন যে আমাদের দেশের "টিম্পা"ও নাকি টিনটিনের মতোই আকর্ষণীয় চরিত্র - কিন্তু টিম্পার গল্প পড়ে আমার কখনোই আহামরি বলে মনে হয়নি। স্পীচ বাবলের আধিক্য যে কমিকসের ক্ষতি করে, সেটা অনেক কমিকস-লেখকই খেয়াল রাখেন না। টিনটিনের সাথে বরং একমাত্র সত্যজিৎ রায়ের গোয়েন্দা ফেলুদার অ্যাডভেঞ্চারগুলোকেই এক সারিতে রাখা যায়।


টিনটিন - অজগরের মুখোমুখি (২০১৫)

১৯৩৪ সালের আগের টিনটিন আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী কালের টিনটিনের মধ্যে বেশ পার্থক্য ছিলো। হার্জ এর চিন্তাধারার আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় তরুণ টিনটিনের পরবর্তীকালের ভ্রমন কাহিনীগুলোতে। মজার ব্যাপার হলো টিনটিনের কাহিনীগুলি পড়ে কিন্তু বোঝা যায় না যে সে আসলে ইউরোপের কোন দেশের নাগরিক -  এমন কি সাংবাদিক টিনটিনের চরিত্রের মধ্যে বিশেষ কোনো ধর্মের প্রতি আনুগত্য খুঁজে পাওয়া যায় না। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে টিনটিনের শেষের দিকের অভিযানগুলো আরও তথ্যবহুল, পরিণত এবং মজাদার হয়ে উঠেছে। খুব জানতে ইচ্ছা করে যে আজ যদি হার্জ আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকতেন তো টিনটিনকে তিনি একবিংশ শতাব্দীর কোন আন্তর্জাতিক ঘটনার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ফেলতেন। 

টিনটিনকে নিয়ে করা স্পিলবার্গের অ্যানিমেশান ম্যুভি দেখেও আমার দারুণ লেগেছিলো, তবে আমি খুব আশা করেছিলাম যে প্রফেসর ক্যালকুলাসকেও সেখানে দেখতে পাবো। লালমোহন বাবু ছাড়া যেমন ফেলুদার কাহিনী অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তেমনি প্রফেসর ক্যালকুলাস ছাড়া টিনটিনের গল্প ঠিক ভাবা যায় না। তবে স্পিলবার্গ তাঁর নিজের মতো করে টিনটিনের তিনটি গল্পকে একসাথে মিশিয়ে ম্যুভিটি তৈরী করেছিলেন, যেটা অনেক টিনটিন ভক্তরাই ভালো চোখে দেখেননি। তবে 3D অ্যাকশনে ভরা কাহিনীর গতি ছিলো বেশ আকর্ষণীয়, আর গ্রাফিক্স, শব্দ এবং অ্যানিমেশন নিয়ে কোনও কথা হবে না !!

~ ~ ~  *ঁ*  ~ ~ ~

আমাদের আজকের এই পোস্টে রইলো টিনটিনের এক ইন্দোনেশিয়ান  ভক্ত, কাকা রাই-এর লেখা ও আঁকা টিনটিনের আরেকটি নয়া অভিযান, "অজগরের মুখোমুখি" - তবে এই ধরণের সংক্ষিপ্ত গল্পগুলিকে হার্জের লেখা টিনটিনের মূল গল্পদের সাথে তুলনা করাটা উচিত হবে না, এগুলোকে স্রেফ ফ্যান-ফিকশান (pastiche) হিসাবে পড়াই ভালো ! 

এই গল্পে দেখা যায় যে মার্লিনস্পাইকে হঠাৎ করে এক বিশাল অজগর সাপের আবির্ভাব ঘটেছে - ঘটনাক্রমে সে জনসনকে গিলে খেয়ে ফেলার উপক্রম করেছে, এমন সময় কাকা রাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে, এক দারুণ উপায়ে সেই সাপকে ঘায়েল করে ফেলে...  কিভাবে ?  সেটা জানতে গেলে তো আমাদেরকে পড়তেই হবে টিনটিনের এই নয়া অভিযানটি। 

এই কমিকসটির প্রচ্ছদপট অলংকরণে সহায়তা করেছেন আমাদের সকলের প্রিয় রূপক ঘোষ মহাশয়। অনেক ধন্যবাদ ও প্রশংসা রইলো তাঁর জন্যে... 

Credits:
Script & Drawings: Kaka Rai
First Release (Blog): 2015
Translation: Kuntal & Rupak 
Baundule (7 MB)
অজগরের মুখোমুখি 
   (Size: 8.7 MB)

Saturday, August 6, 2016

অজানা টিনটিন - জাভাতে টিনটিন

আমার পড়া টিনটিনের প্রথম অ্যাডভেঞ্চার ছিলো "কাঁকড়া রহস্য", সৌজন্যে সেই বড়ো সাইজের "আনন্দমেলা" পত্রিকা। সেই বছরেই বাবার হাত ধরে আমি গুটি গুটি পায়ে হাজির হলাম গিয়ে ময়দানে, কলকাতা-বইমেলায়। মেলায় ঢুকে 'টিনটিনের বিজ্ঞাপন' সাঁটকানো এক ইংরেজী পাবলিশার্সের স্টলে ঢুকলাম - উদ্দেশ্য একটাই, টিনটিনের একটা নতুন বই কেনা। স্টলে ঢুকে দেখলাম বিশাল হলের ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় একটা বড় টেবিলের সিংহভাগ জুড়ে স্তুপাকারে রাখা হয়েছে টিনটিনের বেশ কয়েকটি অ্যাডভেঞ্চার কমিকস - প্রতিটি গল্পের অন্তত: খান তিরিশেক করে কপি রয়েছে - পেপারব্যাক হলেও বাইন্ডিং বা পাতার কোয়ালিটি, কোনোটারই তুলনা হয়না। এক নিমেষে সেখান থেকে তুলে নিলাম "The Crab With The Golden Claws" কমিকসটা !! অথচ টিনটিনের এই গল্পটা আমার অলরেডি পড়া হয়ে গেছে - বস্তুত: টিনটিনের এই একটা গল্পই আমার সর্বসাকুল্যে পড়া, তবু কেন যে ঠিক সেইটাই আমি পকেটখালি করে কিনে ফেললাম, তার কোনো যুক্তিসম্মত ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয় - এটাকেই হয়তো বলে 'যুক্তিহীন ভালোবাসা' সেই সময়ের ভারতীয় টাকায় ডলারের দাম ছিলো ১৮টাকার একটু বেশি - তাই, ওই একটা বই কিনতেই আমাদের দুজনের পকেটেরই বেশ করুন অবস্থা! বাবা তো প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি যে অ্যাতো টাকা ব্যয় করে আমি একটা সামান্য কমিকস বই কিনবো, কিন্তু আমার মুখচোখের অস্বাভাবিকতা দেখে আর না-বলতে পারেননি !!

বেশ কয়েক বছর বাদে এলো টিনটিনের দ্বিতীয় বই: "The Calculus Affair" - ঢাকুরিয়ার গোলপার্কের এক পুরানো বইয়ের দোকান থেকে, আশির দশকে - অনেক দর-কষাকষির পর দাম নিয়েছিলো ১৪টাকা। তখন ইংরেজী বইপড়ায় একেবারেই অভ্যস্ত ছিলাম না - অগত্যা A.T. Dev-এর গোদা ডিকশনারি সঙ্গে নিয়ে শুরু হয়েছিলো আমার ট্রান্সলেট করে করে টিনটিন পড়ে চলা। ক্যুইক রেফারেন্সের জন্যে অঙ্কের খাতা থেকে সাদা পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে সেই কমিকস বইয়ের দু'পাতার মাঝে, আলাদা করে গুঁজে দিতাম। সেই সাদা পাতাতে লেখা থাকতো ওই দুই পাতার অজানা ইংরেজি শব্দগুলোর বাংলা মানে। ট্রান্সলেশনের ভূতটা হয়তো সেই তখন থেকেই আমার মাথার মধ্যে গেঁড়ে বসতে শুরু করেছিলো !!  ইতিমধ্যে ফেলুদার 'সোনার কেল্লা' বড়ো পর্দায় দেখে ফেলেছি - ট্রেনেতে বসে তোপসের টিনটিন পড়ে চলা দেখে আমিও বেজায় প্রভাবিত। তাই পুরী বেড়াতে যাবার সময় তোড়জোড় করে টিনটিনের কমিকস বইটি মলাট দিয়ে, সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া হলো, ট্রেনেতে পড়ার জন্যে। কিন্তু ট্রেনের ঝাঁকুনিতে পাছে বইয়ের অযত্ন হয়, এই আশঙ্কায় সেই বই আমি কোলে করে বসে, না-খুলেই সময় কাটিয়ে দিলাম - নিজেও পড়িনি, কাউকে পড়তেও দিই নি !!


জাভাতে টিনটিন
জাভাতে টিনটিন (২০১৫)
নিজের কথা ছেড়ে এবার আসা যাক একটু ইন্টারেস্টিং ব্যাপারে।  ইন্টারনেটের দৌলতে আজকাল টিনটিনের বেশীরভাগ 'টিপস/ট্রিভিয়া' ফ্রীতেই পড়তে পাওয়া যায়। এদের মধ্যে নিকোলাস স্যাবোরিন-এর সাইটটি ছিলো চমৎকার, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত: সেটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জিম বেলা বলে এক ভদ্রলোক টিনটিনের বিভিন্ন বইয়েতে থাকা ছোটখাটো ভুল-ত্রুটিগুলো একসাথে জড়ো করে এক বিশাল তালিকা বানিয়েছেন। আগ্রহী পাঠকেরা ওখানে একবার ঢুঁ মেরে আসতে পারেন।

আর্টিস্ট হিসাবে হার্জ ছিলেন খুঁটিনাটি-ডিটেলেসের ব্যাপারে অসম্ভব মনোযোগী। কোনও গল্প শুরু করার আগে তিনি সেই গল্পের প্লট বা চরিত্রদের নিয়ে নানান রকম অ্যাঙ্গেল দিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করে দিতেন। অজস্র ফটো, ছবির কাটিং সংগ্রহ করতেন, পরবর্তীকালে সেগুলোকে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করে ছবি আঁকতে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু কিছু ভুল অজান্তে তাঁর নজর এড়িয়ে গিয়েছিলো। 'মাইকেল ফার' তাঁর ‘Tintin - The Complete Companion’ বইতে এরকম বেশ কিছু প্রসঙ্গের উল্লেখ করেছেন। এগুলির মধ্যে একটি মজাদার ঘটনা উল্লেখ করে আমরা আজকের পোস্ট শেষ করবো।

'ফারাওয়ের চুরুট' প্রথমে বার হয়েছিল সাদা-কালো ভার্সনে - পরে যখন সেটিকে রঙিন এডিশনে বার করা হয়, ততদিনে টিনটিনের 'চন্দ্রলোকে অভিযান'-এর রঙিন এডিশনও প্রকাশিত হয়ে গেছে। আর সময়ের এই দোটানায় পড়ে গিয়ে হার্জ, একটা ক্রোনোলজিকাল 'কেলো' করে বসেন।
টিনটিন - ফারাওয়ের চুরুট
সময়ের দিক থেকে 'ফারাওয়ের চুরুট' হলো গিয়ে 'চন্দ্রলোকে অভিযান'-এর অনেক আগেকার গল্প, কিন্তু গল্পের পাতায় দেখা যায় যে শেখ "পাত্রাশ পাশা" টিনটিনকে তাদের চন্দ্র অভিযানের বইটাই দেখাচ্ছে !! সুতরাং প্রশ্ন হচ্ছে, ভবিষ্যতে হতে চলা চন্দ্র-অভিযানের বইটি ওই শেখের হাতে এলো কি করে ? 
~ ~ ~  *ঁ*  ~ ~ ~

আমাদের আজকের এই পোস্টে রইলো টিনটিনের এক ইন্দোনেশিয়ান অন্ধ ভক্ত কাকা রাই-এর লেখা ও আঁকা টিনটিনের আরো একটি নয়া অভিযান, "জাভাতে টিনটিন" - তবে এই ধরণের সংক্ষিপ্ত গল্পগুলিকে হার্জের লেখা টিনটিনের মূল গল্পদের সাথে তুলনা করাটা উচিত হবে না, এগুলোকে স্রেফ ফ্যান-ফিকশান (pastiche) হিসাবে পড়াই ভালো ! এই গল্পতে দেখা যায় যে টিনটিন ইন্দোনেশিয়ার সুবিখ্যাত জাভা আইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়েছেন, এবং লেখক স্বয়ং টিনটিনের সাথে সাথে রয়েছেন, ঠিক যে রকমটি ভাবে আমরা আমাদের কিশোর বয়সে টিনটিনের সাথে মনে মনে রোল-প্লে করে খেলে চলতাম আর কি !! 

Credits:
Script & Drawings: Kaka Rai
First Release (Blog): 2015
Translation: Kuntal & Rupak 
Baundule (7 MB)
জাভাতে টিনটিন 
   (Size: 9.1 MB)

Friday, July 29, 2016

অজানা টিনটিন - মাশরুম কাণ্ড

"আনন্দমেলা" - নামটা শুনলেই সেই সুদূর অতীতের একরাশ ভালোলাগার কথা মনে এসে যায়, আর সেই ভালোলাগার উৎসমূলে দেখা যায় গেঁড়ে বসে আছে সহজ, সরল ভাষায় লেখা এক অসাধারণ কমিকস - টিনটিন!! আনন্দমেলা’র সূত্রেই মাতৃভাষায় টিনটিনের সাথে আপামর বাঙালীর প্রথম আলাপ। যদিও এই পত্রিকার জন্ম ১৯৭৫ সালে, কিন্তু প্রথম যখন টিনটিনকে হাতে পাই, তখন আমি ক্লাস ফাইভ কি সিক্সের ছাত্র। রুদ্ধশ্বাসে পড়ে চলতাম টিনটিনের ‘কাঁকড়া রহস্য’. 'মমির অভিশাপ', 'সূর্যদেবের বন্দি' - টিনটিন থেকে শুরু করে কুট্টুস, ক্যাপ্টেন হ্যাডক, জনসন-রনসন, প্রফেসর ক্যালকুলাস আমার মন জয় করে নিতে এক মুহূর্তও দেরী করেনি। সেই যে সেই প্রেমে পড়া, আজও অবধি সেই বেলজিয়ান সাহেব জর্জ র‍্যেমি, ওরফে হার্জে-র কমিকস-ম্যাজিকের মায়াজাল কেটে বার হতে পারলাম না - আর বাকি জীবনটুকুতেও যে পেরে উঠবো, সে ভরসাও খুব একটা দেখছি না !! টিনটিনের জন্যেই সেই সময়ে একটা ছোট্ট, সাদা কুকুরছানা পোষার জন্যে বাবা-র কাছে কি বায়নাই না করে ছিলাম! রাস্তাঘাটে টলে টলে চলা পাঁড় মাতালকে দেখেও ভালো লাগতো, স্রেফ ক্যাপ্টেনের কথা ভেবেই !!

আবার অন্যদিক দিয়ে দেখলে বলতেই হয় যে বাংলায় প্রকাশিত বোকা-বোকা, নিরামিষ কমিকসদের অসারত্ব চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলো এই টিনটিনই!! পাঠকমহলে টিনটিনের কমিকসগুলির লাগামহীন জনপ্রিয়তার মূলে ছিলো গল্পগুলিতে ঘটনার অভাবনীয় চমকপ্রদতা, চরিত্রদের বৈচিত্রতা, দুরন্ত সব পটভূমিকা, অসাধারন রসবোধ, তেমনি ডিটেলস ড্রয়িং, এবং ঘটনাবলীর নিঁখুত বর্ণনা - সুপারডুপার হিট না-হয়ে যায় কোথা !! তার সাথে জুড়ে ছিলো হার্জের অনবদ্য ‘লিনেউ ক্লেয়ার’ (Ligne Claire) স্টাইল। 

গোটা দুনিয়া জুড়ে প্রায় ৭০টিরও বেশী সংখ্যক ভাষায় টিনটিনের কমিকস প্রকাশিত হয়েছে - এমন কি রুপোলি পর্দাতেও টিনটিন ভীষণভাবে জনপ্রিয়। তবে অ্যামেরিকার বাজারে টিনটিন কখনোই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি, তার একটা কারণ যেমন ছিলো টিনটিন ইউরোপীয়ান (নাক-উঁচু), তেমনি অন্যদিকে সেই সময়ে, অর্থাৎ চল্লিশ থেকে ষাটের দশকে, অ্যামেরিকার কমিকস জগৎ তোলপাড় করে রেখেছিলো 'মার্ভেল" আর 'ডি.সি. কমিকস' থেকে প্রকাশিত হওয়া একগাদা দুর্দান্ত সব ক্যারেক্টার। তাই বাইরে থেকে আর নতুন করে কোনো কমিকস ক্যারেক্টার আমদানি করার দরকার অ্যামেরিকান পাঠকদের হয়ে ওঠেনি !! 

টিনটিনকে নিয়ে তার অগুন্তি ভক্তেরা যে কি অস্বাভাবিক ধরণের পাগলামো করে থাকে সেটা অন্য আরেক দিন বলা যাবে। আমাদের আজকের এই ছোট্ট পোস্টের উদ্দেশ্য হলো এমনই এক ভক্তের মাত্রাহীন ভালোবাসার কথা তুলে ধরা। 


অজানা টিনটিন - মাশরুম কাণ্ড
টিনটিন - মাশরুম কাণ্ড (2015)

কাকা রাই (Kaka Rai) হলেন একজন ইন্দোনেশিয়ান, গ্রাফিক ডিজাইনের ছাত্র, এবং টিনটিনের এক অন্ধ ভক্ত। টিনটিনকে নিয়ে তিনি বেশ কিছু ছোটো-খাটো কমিকস প্রকাশিত করে চলেছেন। গল্পের প্লট ও ছবি আঁকা, দুয়েরই দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন তিনি নিজেই। তবে এইসব সংক্ষিপ্ত গল্পগুলিকে কিন্তু হার্জের লেখা টিনটিনের মূল গল্পদের সাথে তুলনা করতে যাওয়াটা একটু বোকামিই হবে। তাঁর লেখা এই গল্পগুলির বৈশিষ্ট্য হলো যে প্রতিটি গল্পেই তিনি স্বয়ং নিজে টিনটিনের সাথে আছেন, ঠিক যে রকমটি ভাবে আমরা আমাদের কিশোর বয়সে টিনটিনের সাথে মনে মনে রোল-প্লে করে খেলে চলতাম আর কি !!

সেই রকমই একটি ছোটো গল্প আজ বাংলায় অনুবাদ করে এখানে দেওয়া হলো। এই কমিকসটির প্রচ্ছদপট অলংকরণে সহায়তা করেছেন আমাদের সকলের প্রিয় রূপক ঘোষ মহাশয়। অনেক ধন্যবাদ ও প্রশংসা রইলো তাঁর জন্যে... 

Credits:
Script & Drawings: Kaka Rai
First Release (Blog): 2015
Translation: Kuntal & Rupak 
Baundule (7 MB)
মাশরুম কাণ্ড - টিনটিন 
   (Size: 6.2 MB)

Saturday, July 16, 2016

ছেঁড়া ঘুড়ি, রঙিন বল, এইটুকুই সম্বল...

শেষ বইমেলায় যেবার গেছিলাম তার সাল-তারিখ মনে না থাকলেও, একটা ঘটনা এখনও আমার মনে বেশ গেঁথে আছে --- রোগামতো, গলায় মাফলার জড়ানো মফস্বলী একটা ছেলে, বইয়ের স্টলে দাঁড়িয়ে একমনে একটা মোটা বই হাতে নিয়ে গভীর মনোযোগে দ্রুত পড়ে যাচ্ছে - খুব সম্ভবত: দেব লাইব্রেরী বা পত্র ভারতীর স্টলে। আশেপাশের লোকজনদের কথাবার্তা, লাউডস্পীকারের তারস্বরে চিল্লানি, বা সেজেগুজে আসা উচ্ছল তরুণীদের দল, কোনোকিছুই তার মনোযোগ বিক্ষিপ্ত করতে পারছে না। সহসাই যেন মনে হলো আমি টাইমমেশিন করে সুদূর অতীতে ফিরে গিয়ে, সতেরো বছর আগেকার সেই 'আমাকেই' যেন আড়াল থেকে দেখে চলেছি !! কিছুক্ষন বাদে বইপড়া শেষ হয়ে গেলে সে বইটি যথাস্থানে সযত্নে গুঁজে রেখে, সাইডব্যাগ বগলে করে হন্তদন্ত হয়ে চলে গেলো ! আর তার সাথে দেখা না হলেও আমি স্থির জানি যে সে আরো বেশ কয়েকটি স্টলে গিয়ে একইরকম ভাবে বই-গিলে, মেলার শেষ প্রহরে বড়োজোর দুটি কি তিনটি সরু-সরু বই কিনে নাচতে নাচতে, বাসে করে ঝুলে বাড়ি ফিরে যাবে। এর থেকে বেশী নতুন বই কেনার ক্ষমতা তার নেই। 


ছোটবেলায় বইপড়ার (কু)নেশাটা মাথার মধ্যে ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন আমার বাবা স্বয়ং নিজেই। মধ্যবিত্তের বিশাল সংসারে বেসরকারি অফিসে কাজ করে, লোন নিয়ে বাড়ি করার সাথে সাথে, কি অবিশ্বাস্য দু:সাহসের পরিচয় দিয়ে যে তিনি নানান জায়গা থেকে অজস্র পুরানো গল্পের বই কিনে আনতেন, তা আজ ভাবতেই অবাক লাগে !  


প্রথম প্রকাশ: মহালয়া আশ্বিন, ১৩৫৮ (দেব সাহিত্য কুটীর)

পুজোর সময় নতুন জামা-কাপড় হোক বা না-হোক, ছেলেমেয়েদের হাতে তিনি নিয়ম করে ঠিকই তুলে দিতেন দেব সাহিত্য কুটীরের মোটা মোটা পূজাবার্ষিকী - যেগুলোর বেশিরভাগই কেনা হতো ঢাকুরিয়ার কাছে, গোলপার্কের পুরানো বইয়ের দোকানগুলো থেকে। দর-দাম করাও যে একটা উচ্চতর আর্টের পর্যায়ে চলে যেতে পারে সেটা নিজের চোখে না-দেখলে, লিখে ঠিক বোঝানো যাবে না !! শরতের পুজোর উচ্ছলতার আনন্দের সাথে মিশে যেতো সাহিত্যপাঠের অনাবিল আনন্দ। 
    
নগর জীবনে হাজার ব্যস্ততার ভিড়ে আজ আমরা বই পড়তেই ভুলে গেছি। বই পড়ার জন্যে সাজ-সরঞ্জামের অভাব আমাদের নেই - পকেটভর্তি টাকা আছে, অ্যামাজন-ফ্লিপকার্ট আছে, কিন্ডল আছে, আইপ্যাড আছে - নেই শুধু ছেলেবেলাকার ফেলে আসা পড়ার সেই  মনটা... 
 ~ ~ ~ ~ ~ ~ ~

আজকের এই পোস্টে রইলো আজ থেকে প্রায় ৫৫ বছর আগেকার দেব সাহিত্য কুটির থেকে প্রকাশিত বিস্মৃতপ্রায় এক পূজাবার্ষিকী, 'অভিষেক' (১৩৫৮ সাল) থেকে তিনটি অমূল্য গল্প - 

   ১) ব্যাঘ্রভূমির বঙ্গবীর - শ্রীহেমেন্দ্রকুমার রায় 
   ২) মাউই-এর উপাখ্যান - প্রেমেন্দ্র মিত্র 
   ৩) সত্যবাদিতার পুরস্কার - শিবরাম চক্রবর্তী  

বইটির অবস্থা দেখতে যতোটা না করুণ লাগছে, বাস্তবে এর চেহারা কিন্তু শতাধিক বেশী করুণ !!



অভিষেক (তিনটি গল্প)
(SIZE: 11.4 MB)




Monday, July 4, 2016

নিঝুমপুর - তারাপদ রায়

"নদী থেকে উঠে আসে পথ,     
না কি পথ নেমে যায় নদীর ভিতরে ?  
. . .তবুও কেন যে মনে মনে
থেকে যায় কাঁচা রাস্তা, ভাঙা পাড়  
অমল কাদায়        
পথ ও নদীর মধ্যে পড়ে থাকে
পাখির পালক..."  


স্কুলজীবন ছেড়ে কলেজজীবনে ওঠার সেই গোলমালে ভরা সময়ে কি কারণে না-জানি আমি তারাপদ রায়ের লেখার বেশ ভক্ত হয়ে গেলাম - আসল কারণটা আমি ঠিক এখনও ধরে উঠতে পারিনি। তারাপদ রায় মূলত: ছোটোখাটো হাসির গল্প, যাকে 'রম্যরচনা' বলা হয়ে থাকে, সেই ধরণের 'আলতু-ফালতু' লেখা লিখে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন। বেশ কিছু কবিতা এবং ছোট-বড় গল্পও তিনি লিখেছিলেন -  তবে বাঙালীর নাক-উঁচু সাহিত্যিক জগতে কেউকেটা হয়ে উঠতে তিনি কখনোই পারেন নি, বা চানও নি। সে যাই হোক, একসময় দেখা গেলো একটা-দুটো করতে করতে, কলেজ স্ট্রীট থেকে তারাপদ রায়ের হাবিজাবি লেখা প্রায় সবকটা বইই আমি কিনে কিনে আলমারি ভরে ফেলেছি। শুধু বই কেনাই নয়, সদ্য কেনা নতুন বইয়ের কভার বাঁচানোর জন্যে আমি যথেষ্ট সময় নষ্ট করে সাদা প্লাস্টিকের ট্রান্সপ্যারেন্ট কভার দেওয়াও চালু করে দিয়েছি। 

আলো-আঁধারি ভরা সন্ধ্যাবেলা, কি ঝুপঝুপে বৃষ্টির দিন, তারাপদ রায়ের একখানা বই হাতে করে নিয়ে বসলেই সময় কেটে যেতো হু হু করে - বিশেষ করে প্রথম যৌবনের সেই ব্যাচেলর-কাম-বেকার জীবনে, কারণ-অকারণে ধেয়ে আসা নাম-না-জানা, মন-ভার করা বিষণ্ণ সময়গুলোকে মেরামত করে তুলতে তারাপদ রায়ের লেখার কোনও জুড়ি ছিলো না !

নিঝুমপুর
প্রথম প্রকাশ: বইমেলা 1998 (১৪০৪)
প্রচ্ছদ: সুধীর মৈত্র
 

বয়স বাড়ার সাথে সাথে জীবন অনেকটা পানসে হয়ে যায় - সেই সোনালী সময় গেছে হারিয়ে, রাগ-অনুরাগে ভরা সেই মধুর জীবন চলে গেছে আজ বেশ কয়েক বছর হলো, তবু বার বার সেই সময়কার কথা ঘুরে ফিরে আসে মনের মধ্যে। আজ যখন প্রতিটা দিনকে সন্ধ্যের দিকে টেনে নিয়ে যেতে যেতে আলো ছায়াভরা পথগুলোর দিকে পা বাড়াই, মন চলে যায় পিছু ফিরে সেই হারানো অমলিন ক্ষণগুলোতে...

~ ~ ~ ~ ~ ~ ~

পৃথিবীর মানচিত্র থেকে চিরদিনের মত নিশ্চিহ্ন পূর্ববঙ্গের নদীতীরের পঞ্চাশ বছর আগের পল্লীজীবন। দ্বিতীয় মহাযুদ্ধের পটভূমিকায় গ্রামবাংলার একটি নিষিদ্ধ প্রেমের কাহিনী নিয়ে আমাদের আজকের এই পোস্ট।   

এরকম লেখা তারাপদ রায় আগে খুব একটা লেখেন নি - লেখা উচিত কিনা সেটা না'হয় পাঠকেরাই বিবেচনা করুক...


নিঝুমপুর 
(Size: 19 MB)


Saturday, June 25, 2016

Rip Kirby - Murderous Matches

In Volume 6 of the "Rip Kirby" series Rip enters the' Swinging Sixties' and artist John Prentice has made the strip completely his own. The book has eight stories from mid-1959 through early 1962. John Prentice and his assistant Al Williams did a great job of laying out some fantastic art, great visual and super narrative story telling. 

Today's post involves an old Rip Kirby strip from John Prentince's era (RK047). It originally ran in paper from 8th June to 3rd October, 1959The story involves detective Remington Kirby and his butler & right hand man former burglar Desmond, plus love interest Honey Dorian. Honey who appeared in more then 40% of the earlier stories makes her single appearance in this story. 


 Rip Kirby - Murderous Marches
 Rip Kirby - Murderous Matches (RK047)
PLOT:
Having recently taking up astronomy as a hobby, Desmond is checking the accuracy of his telescope against distant objects when he realizes that he has unwittingly registered the combination of a safe in an apartment opposite Rip's flat. Returning later from an evening out with Honey, a distressed Rip is met by devastating news: Desmond has drowned whilst making a frantic escape across New York after being caught red-handed over a dead body by the safe...

Read here the 3-part series of the timeless and entertaining suspense Rip Kirby strips - Happy Sunday...


   >> 1st Part (12 Pages)
   >> 2nd Part (13 Pages)
   >> 3rd Part (9 Pages)



Saturday, June 18, 2016

শিকার কাহিনী

বাংলা ভাষায় ঐতিহাসিক এবং বন্যজীবজন্তুদের নিয়ে রোমাঞ্চকর অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী রচনায় বিশেষ মুন্সীয়ানার পরিচয় দিয়েছিলেন হাতে-গোনা যে কয়েকটি লেখক, তাঁদের মধ্যে অবশ্যই অন্যতম হলেন ময়ূখ চৌধুরী। সত্যি কথা বলতে কি বাংলার লেখকদের মধ্যে একমাত্র তাঁর রচিত কমিকসগুলোকেই পাশ্চাত্যদেশের সেরা কমিকসদের সাথে এক সারিতে রাখা যায়। 

তাঁর রচিত কাহিনীগুলির মৌলিকতা এবং সেই সঙ্গে কাহিনীর চরিত্রগুলির বিশ্বাসযোগ্য চিত্ররুপায়ণ এক ধাক্কায় বাংলার কমিকসকে বেশ কিছুটা সাবালক করে তুলেছিলো। 
শিকার কাহিনী 


তবে কমিকস ছাড়াও তিনি বেশ কিছু গল্প-উপন্যাস লিখে গেছেন এবং বহু শিল্পীর রচনাতেই তিনি ছবি আঁকার ভার নিজের হাতে তুলে নিয়েছিলেন। 

আমাদের আজকের এই পোস্টে দুটি অ্যাডভেঞ্চার কাহিনী তুলে ধরা হলো যেখানে ময়ূখ চৌধুরী চিত্রায়ণ করেছিলেন। গল্প দুটি প্রকাশিত হয়েছিলো দেব সাহিত্য কুটীর থেকে প্রকাশিত 'নীহারিকা' পূজাবার্ষিকীতে।  


Walk The Plank (1.6 MB)
শিকার কাহিনী
(Size: 9.2 MB)



Sunday, June 5, 2016

জগৎ শেঠের রত্নকুঠী - হেমেন্দ্র কুমার রায়

আমাদের কৈশোরের মুগ্ধ স্মৃতিতে 'হেমেন্দ্রকুমার রায়' নামটি অবিস্মরণীয় ভাবে জড়িয়ে আছে। তাঁর সৃষ্ট কিশোর গোয়েন্দা জয়ন্ত এবং মানিক আজকের ফেলুদা কিম্বা ব্যোমকেশ বক্সির সাথে জনপ্রিয়তায় প্রায় সমানে সমানে পাল্লা দিয়ে চলতো। জয়ন্ত-মানিকের বুদ্ধিদীপ্ত বিশ্লেষণ আর দারোগা সুন্দরবাবুর ভোজন-রসিকতায়  এই গোয়েন্দা গল্পগুলি ছিলো তখন আমাদের কাছে অত্যন্ত উপাদেয়। গল্পের মাঝে মাঝে সরস টিপ্পনি আর সুন্দরবাবুর হাস্যকর আচরণ তাদের আরো আকর্ষনীয় করে তুলেছিলো। 

তবে গোয়েন্দা গল্প ছাড়াও হেমেন্দ্রকুমার রায় গা-শিরশির করা ভূতের গল্প এবং রোমাঞ্চকর সত্য কাহিনী রচনাতেও অস্বাভাবিক ধরণের দক্ষ ছিলেন, এবং সব রকমের কাহিনীতেই পাঠকদের মনোযোগ আগাগোড়া টেনে ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছিলেন। 

জগৎ শেঠের রত্নকুঠী - হেমেন্দ্র কুমার রায়
দেব সাহিত্য কুটীর - বই হিসাবে 
প্রথম প্রকাশ: বইমেলা, ২০০৮
এই উপন্যাসটি বহুবছর আগে মাসিক শুকতারা পত্রিকায় ১২টি পর্বে ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হয়েছিলো ১৩৭০-১৩৭১ সালে। তবে বই হিসাবে এটি প্রথম প্রকাশিত হয় দেব সাহিত্য কুটীর থেকে, 2008 সালের জানুয়ারী মাসের বইমেলায়। শুকতারায় প্রকাশিত কাহিনীতে ছবিগুলির অলঙ্করণ করেছিলেন নারায়ন দেবনাথ মহাশয়, তবে বই হিসাবে প্রকাশিত গল্পের ছবিগুলির অলঙ্করণ করেন অন্য কোনো শিল্পী (খুব সম্ভবত: গৌতম দাশগুপ্ত মহাশয়)। শুকতারাতে ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত এই গল্পটি পাওয়া যাবে ইন্দ্রনাথের ব্লগে এ ছাড়াও পরবর্তীকালে হেমেন্দ্র কুমার রায়ের বিভিন্ন সমগ্রতেও এই কাহিনীটি অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।  

বর্তমান যুগের ক্ষুদে পড়ুয়াদের কাছে হেমেন্দ্রকুমার তেমন পরিচিত কোনো নাম হয়ত নন। সে'জন্যেই তাঁর সৃষ্ট এক অসাধারণ গোয়েন্দাকাহিনী এখানে একটু সহজভাবে, বই ফর্ম্যাটে তুলে ধরা হলো।


জগৎ শেঠের রত্ন্কুঠী  
(SIZE: 16 MB)




Saturday, May 28, 2016

Sherlock Holmes - Boscombe Valley Mystery


"A man is accused of murder! Can Holmes prove his innocence ?" 
James McCarthy is the only suspect in his father's murder. Yet Sherlock Holmes and James's childhood friend Alice Turner believe he is innocent. Can Holmes unveil the real story behind the murder in Boscombe Valley in time?

Sherlock Holmes and his helpful friend Dr. John Watson are fictional characters created by British writer Sir Arthur Conan Doyle. Doyle published his first novel about the pair, A Study in Scarlet, in 1887, and it became very successful. Doyle went on to write 56 short stories, as well as 3 more novels about Holmes's adventures --- The Sign of Four (1890), The Hound of Baskervilles (1902), The valley of Fear (1915).


Sherlock Holmes (Boscombe Valley Mystery)
Sherlock Holmes (Boscombe Valley Mystery)
Sherlock Holmes and Dr. Watson have become some of the most famous book characters of all time. Holmes spent most of his time solving mysteries, but he also had  a wide array of hobbies, such as playing the violin, boxing, and sword fighting. Watson, a retired army doctor, met Homes through a mutual friend when Holmes was looking for a roommate. Watson lived with Homes for several years at 221B Baker Street before marrying and moving out. However, after his marriage, Watson continued to assist Holmes with his cases.

The original version of the Sherlock Holmes stories are still printed, and many have been made into movies and TV shows. Readers continue to be impressed by Holmes's detective methods of observation and scientific reason.

~ ~ ~ * ~ ~ ~
Story Adapters: Murray Shaw and M. J. Cosson
Illustration: Sophie Rohrbach and HT Morrow


Pagan's Plight (67 MB)
   Sherlock Holmes
Boscombe Valley Mystery
   (Size: 22 MB)


Saturday, May 14, 2016

যাহা নাই (মহা)ভারতে, তাহা নাই ভারতে

কথায় বলে, "যাহা নাই (মহা)ভারতে, তাহা নাই ভারতে..." - সত্যি কি যে নেই মহাভারতে! আপামর জন-সাধারণের কাছে মহাভারত একটি মহাকাব্য, মানে দেবতাদের কিম্বা দেবাংশজাত নায়কদের নিয়ে লেখা কাব্য। যেহেতু এখানে দেবতারা আছেন, সুতরাং ব্যাপারটা নিশ্চয়ই ধর্মের। অজ্ঞানতার এমন নজির বোধহয় দুনিয়ায় খুব বেশি মেলে না। প্রাচীন ভারতের প্রযুক্তিবিদ্যা যে কতো বড়ো ছিলো তা অনুমান করা বড়ো সহজ কথা নয়। 'স্থাপত্য বেদ', 'সমরাঙ্গন-সূত্রধারা' প্রভৃতি গ্রন্থের প্রতি ছত্রে কতো যে প্রাযুক্তিক নির্দেশ লুকিয়ে আছে তা আজও আমাদের জ্ঞানচক্ষুর অন্তরালে রয়ে গেছে।   
 *  *  *  *  *  * 
... ... ...অর্জুনকে স্বর্গলোকে নিয়ে যাবার জন্যে ইন্দ্রের প্রকান্ড রথ এসেছে। বিমানটির বর্নণা দিতে ব্যাসদেব বলেছেন -- "এমন সময়ে মহামেঘের শব্দের তুল্য গম্ভীর শব্দে সমস্ত দিক পরিপূর্ণ করিয়া মেঘ্সমূহকে যেন বিদীর্ণ করিতে থাকিয়া এবং আকাশমন্ডলকে অন্ধকারশুন্য করিয়া মহাপ্রভাবশালী মাতলিসংযুক্ত ইন্দ্ররথ আগমন করিলো। সেই বিমানে  বায়ুর ন্যায় বেগশালী অশ্বাকৃতি দশহাজার  চালকযন্ত্র ছিলো, যন্ত্রগুলি নয়নার্ষক সেই দিব্য বিমানকে বহন করিতো..."  মাতলি অর্জুনকে বিমানে আরোহন করতে বলায় অর্জুন বললেন, "তুমি রথে উঠিয়া অশ্ব্গুলিকে স্থির করিলে পর ওই রথে আরোহণ করিবো। অর্জুনের সেই কথা শুনিয়া ইন্দ্রসারথি মাতলি সত্ত্বর রথে আরোহণ করলেন এবং রশ্মি দ্বারা অশ্বগুলিকে সংযত করিলেন"। মাতলি 'রশ্মি দ্বারা অশ্বগুলিকে সংযত' করলেন, এই ব্যাখায় একটা জিনিষ ভারী অদ্ভুত, সেটি হলো 'রশ্মি' - 'বল্গা' নয় কেন ? এক্ষেত্রে বুঝতে  হয়না যে রশ্মির অর্থ লাগাম নয়, আর অশ্বের অর্থও, ঘোড়া নয়। 


 *  *  *  *  *  * 
... ... ... অনেক পরীক্ষা, আর অধ্যাবসায়ের পর পান্ডুনন্দন অর্জুন পেয়েছিলেন 'পাশুপাত' অস্ত্র - যে অস্ত্র কিনা সকল অস্ত্রের প্রতিষেধক দিব্য অপ্রতিরোধ্য অস্ত্র। অস্ত্রটি যে কি পরিমান ভয়ঙ্কর তা বোঝাবার জন্যে মহাদেব বলেছেন -- "আমার এই অস্ত্র কখনো কোনো মানুষের উপর প্রয়োগ করিবে না। হীনতেজ বিপক্ষের উপর ইহা নিক্ষেপ করিলে সমস্ত জগৎকে ধ্বংস করিয়া ফেলিবে। শত্রুগণের দ্বারা অত্যন্ত পীড়িত হইলে, সেই প্রাণসঙ্কটে তখন আত্মরক্ষার জন্যে ইহার প্রয়োগ করিতে পারো। শত্রুগণের অস্ত্রসমূহকে প্রতিরোধ করিতেও সর্বদা ইহার প্রয়োগ করিতে পারো।   "এরপর বরুণ দিলেন "বারুণ  পাশ" - যম দিলেন "দন্ড  অস্ত্র" - কুবের দিলেন 'অন্তর্ধান' নামা প্রসিদ্ধ অস্ত্র। ইন্দ্রের কাছে পেলেন 'বজ্র' এবং অনান্য 'বৈদ্যুতিক অস্ত্র' এবং তা প্রয়োগের শিক্ষা। এতো সব দিব্যাস্ত্র সংগ্রহ করে অর্জুন ফিরে এলেন ভায়েদের কাছে। স্বভাবত:ই তাঁরা সেই সব অস্ত্রের ক্ষমতা একটু দেখতে চাইলেন - অর্জুন দেখাতে রাজীও হলেন। কিন্তু একটির প্রয়োগেই "পর্বতসমূহ বিদীর্ণ হইতে লাগিলো, বায়ুর প্রবাহ বন্ধ হইলো..." - নারদ তাড়াতাড়ি এসে বললেন, "হে অর্জুন, এই অস্ত্রগুলি লক্ষ্য ব্যতিরেকে কখনো প্রয়োগ করিতে নাই, আবার লক্ষ্য বর্তমান থাকিলেও নিজে অত্যন্ত সঙ্কটে  না পরিলে উহাদিগকে প্রয়োগ করিবে না। এই দিব্যাস্ত্রগুলি অনুচিতরূপে প্রয়োগ করিলে মহা অনর্থ হইবে। শাস্ত্রানুসারে এই অস্ত্রসমূহ শুধু সুরক্ষিত করিয়া রাখিলেই অস্ত্রগুলি বলবান থাকে ও সুখের কারণ হয়, ইহাতে সন্দেহ নাই। এইগুলি সুরক্ষিত করিয়া না রাখিলে ইহারা ত্রিলোকের নাশের কারণ হয়।" - সুতরাং প্রাচীন ভারতের প্রযুক্তিবিদ্যা যে কতো বড়ো ছিলো তা অনুমান করা বড়ো সহজ কথা নয়।

 *  *  *  *  *  * 

আজকের এই পোস্টে আমি সেই ছোটবেলাকার 'শিশু সাহিত্য সংসদ' থেকে প্রকাশিত 'ছবিতে মহাভারত' চিত্রকাহিনীটি তুলে ধরলাম। একসময় এর প্রতিটি পাতা প্রায় আমার মুখস্থ ছিলো - আশা করি আমার মতো অনেকেরই হয়তো এটিকে আবার করে পড়তে ভালো লাগবে। 


ছবিতে মহাভারত
(SIZE: 22.3 MB)