খুব ছোটবেলায় যেবার বাবার হাত ধরে কলকাতা বইমেলায় গিয়েছিলাম, সেবারে মেলায় ঢুকেই প্রথম দুই-নম্বর, কি তিন-নম্বর স্টলে গিয়েই একগাদা বই আঁকড়ে ধরে বাবাকে বলেছিলাম, "এই সবগুলোই আমার চাই !" - তার মধ্যে 'দুরন্ত ঈগল' ছিলো, 'সোনার ঘন্টা' আর 'হীরের পাহাড়'ও ছিলো। বাবা আমাকে খুব আদর করে, মাথায় হাত বুলিয়ে বুঝিয়ে বলেছিলো 'অতো বই কেনার পয়সা তো নেই আমার, বাবা !! আমরা বরং স্টলগুলো ঘুরে ঘুরে দেখি যে কি কি বই এসেছে...' - একরাশ চোখ'ভরা জল নিয়ে স্টল থেকে সেদিন বেরিয়ে এসেছিলাম। ওই সব কটা বইই অবশ্য পরে বড়ো হয়ে কিনে পড়েছিলাম। কিন্তু সেই প্রথম না-পড়ার দু:খ আজও আমার যায় নি।
পরবর্তীকালে অবশ্য শুকতারায় ধারাবাহিক ভাবে প্রকাশিত অনিল ভৌমিকের "অদৃশ্য জলদস্যু" উপন্যাসটি নিয়মিতভাবেই পড়েছিলাম এবং বিস্মৃত হয়েছিলাম এই ভেবে যে এতো সুন্দর গল্পটি লেখক মাথায় আনলেন কেমন করে। কিছুটা "আলাদিনের দৈত্য"-এর আদলে গড়ে তোলা 'গঞ্জালো'-র চরিত্রটি যে কোন কিশোরকে আকৃষ্ট করে তুলবেই তুলবে !
বইয়ের তাকের মধ্যে থেকে হঠাৎই খুঁজে পাওয়া গেলো আজ এই বইটিকে। এই বইটিও দেখছি বইমেলা থেকেই কেনা। বইয়ের পাতায় ছোট্ট করে লিখে রাখা তারিখটা বলছে যে ১৯৯৩ সালের সেকেন্ড এপ্রিলে বইটি কেনা হয়েছিলো - বইমেলা থেকে। তখনকার দিনে এটির মূল্য ছিলো মাত্র ১৯/- টাকা - প্লাস ১০% ডিসকাউন্টও নিশ্চয়ই পেয়েছিলাম। সেই সময় লোকাল ট্রেনের দৈনিক টিকিট হতো কিছুটা বিস্কুট কালারের মোটা কাগজ দিয়ে। সেই পুরানো দিনের একটি ট্রেনের টিকিটও দেখছি বইটার মধ্যে গুঁজে রাখা আছে - পেজ মার্কার হিসাবে ব্যবহৃত হয়েছিলো কোন এক সময়।
এত সুন্দর বই আমি কারোর ব্লগে এখনো খুঁজে পাই নি। কোন ভালো জিনিষ শেয়ার করার মধ্যে যে আনন্দ লুকিয়ে থাকে, তার স্বাদ অনেকেই জানেন না, বা পেতেও চান না। আমি অন্তত: সেই দলে নই - তাই এই বইটি পুরোটাই শেয়ার করা হলোএখানে।
![]() |
| প্রথম তিন পর্ব |
![]() |
| Complete Book |

