'তারাপদ রায়'-কে লেখক বলতে অনেকেই কেমন যেন নাক সিঁটকান। তাঁর রচিত রম্য কাহিনীগুলোকে অনেকে ঠিক 'রম্য কাহিনী' হিসাবে মেনে নিতে চান না - তার একটা কারণ হয়তো সেগুলো আকারে বড়ই ছোটো সাইজের। অনেকেই আবার বলেন যে উনি তো বিদেশী জোকস পড়ে সেখান থেকে বাংলায় অনুবাদ করে চালিয়ে দেন। হয়তো কিছুটা সত্যি, হয়তো নয় - সে বিচারে না গিয়ে আমি বলতে পারি তারাপদ রায় কিন্তু বাঙালির মশা-লোডশেডিং-আমাশায় ভরা মধ্যবিত্ত জীবনকে হাস্যরসে ভরিয়ে রেখেছেন, at least রেখেছিলেন। হালকা হাস্যরসের সাথে পরিমিত তিক্তরস মিশিয়ে একের পর এক খোশগল্প বানানো কিন্তু মুখের কথা নয়। তার ওপর তাঁর গল্প বলার ভঙ্গিটি ছিলো ভারী মজলিশী। তাই কলেজ-লাইফ থেকেই আমি তারাপদ রায়ের রম্যরচনার একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলাম। যে হারে সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়ের বই কিনেছি, সেই একই রকম ভাবে তারাপদ রায়ের প্রায় সবকটা রম্যরচনার বইই আমি কিনে কিনে আলমারী ভরিয়ে ফেলেছিলাম।
সমস্যায় পড়লাম এদেশে এসে যখন গুগল সার্চ করে তারাপদ রায়ের লেখা কোন হাসির বই ডাউনলোডের জন্যে খুঁজে পেলাম না। আমার ধারণা ছিলো কিছু না-হলেও অন্তত: বিদ্যাবুদ্ধি, কান্ডজ্ঞান, জ্ঞানগম্যি, বুদ্ধিশুদ্ধি-র মতো পপুলার বইগুলোর কিছু অংশ নিশ্চয় কারুর না কারুর কাছ থেকে পড়তে পাবো - but alas.......
শেষমেষ ডবলেরও ডবল দাম দিয়ে একই বই দু'বার করে আমায় কিনতে হলো। এই পোস্টে আমি তারাপদ রায়ের লেখা আটটি রম্যরচনা একসাথে করে আপলোড করলাম - এগুলো মূলত: কান্ডজ্ঞান আর বিদ্যাবুদ্ধি বই দুটিতে ঠাঁই পেয়েছিলো। ভালো-মন্দয় মেশানো এই লেখাগুলো মনে হয় কিছুক্ষণের জন্যে হলেও সনাতন বাঙালী পাঠকদের মুখে কিছুটা হাসি আনতে পারবে। সব লেখাগুলোর মধ্যেই 'ম'-কারান্ত ব্যাপার জড়িয়ে আছে, কিন্তু তা'বলে আমিও যে সেই একই রসের ভাগীদার, সে কথাটা কিন্তু মোটেও সত্যি নয় !!

