'বগলামামা'-র সাথে আমার পরিচয় ঘটে ক্লাস নাইনে ওঠার পর। যদিও বাড়িতে বহুকাল ধরেই একগাদা পূজাবার্ষিকী আলমারীতে জমা হয়ে ছিলো, কিন্তু এই গল্পগুলো পড়তে আমার আগে খুব একটা ভালো লাগে নি। তখন বরঞ্চ টেনিদা-হাবুলের কাহিনী পড়তেই বেশী ভালো লাগতো। কিন্তু ক্লাস নাইনে ওঠার সময় আমার ছোটদা যাদবপুর ইউনিভার্সিটিতে জিওলজি ডিপার্টমেন্টে ভর্তি হয়, আর সেই সঙ্গে তার মাঝে মধ্যে ফিল্ড-ট্রিপে যাওয়া শুরু হয়। তার প্রথমদিকের বেশিরভাগ ট্রিপ-ই হতো বিহার-এর নানান দূর্গম বন-জঙ্গলের দিকে। কয়েক সপ্তাহ ট্রিপের পর যখন সে গায়ের রং আরও কালো করে বাড়ি ফিরে আসতো, তখন আমরা সবাই মিলে হামলে পরে তার মুখ থেকে সেই সব ট্রিপের নানান গপ্প হাঁ-করে গিলতাম। হরেক রকমের রোমাঞ্চকর ঘটনার ঘনঘটায় ভরা থাকতো তার সেই সব ট্রিপ-কাহিনী গুলো। এই ভাবেই 'গোমো', 'বেরমো', 'বোকারো', 'কারগলি' ইত্যাদি নানান স্টেশন ও অঞ্চলের সাথে আমার ধীরে ধীরে পরিচয় ঘটে ওঠে। আর সেই তখন থেকেই কেমন করে না-জানি বগলামামার গল্পগুলোর প্রতি আমার নতুন করে আকর্ষণ শুরু হয়। এই পরের বারে পড়তে গিয়ে দেখি সেগুলো আসলেই বেজায় মজার, নির্মল হাস্যরসে ভরপুর, আর তাদের ঘটনাবলীর মধ্যে প্রচুর সত্যের ছোঁয়া রয়েছে - বিশেষ করে প্রাকৃতিক দৃশ্যাবলীর বর্ণনার মধ্যে।
আজ ছোটদা চাকরিসুত্রে অনেক উঁচু পোষ্টে উঠে গেছে - অনেককালই হলো সে এখন কলকাতায় GSI-র Main Office-এ যাতায়াত করে। এখন আর তাকে আগেকার মতো ঘনঘন ফিল্ড-ট্রিপে যেতে হয় না - তাছাড়া দেখা-সাক্ষাৎও গেছে অনেক কমে - তাই সেই সব গল্পও আর শোনা হয়ে ওঠে না !
এই ব্লগে আমি সেই পুরনো দিনের বগলামামা-র কিছু গল্প স্ক্যান করে আপলোড করলাম। স্ক্যানের কোয়ালিটি মোটেই ভালো নয় - কারণ এগুলো অরিজিনাল বই থেকে জেরক্স করার পর, সেই জেরক্স-করা পাতা থেকে পরে আবার স্ক্যান করা হয়েছে। দেশের সেই জেরক্স-ওয়ালার মেশিনও ভালো করে জেরক্স করতে পারেনি। দেশের বাড়িতে আমার স্ক্যানারও ছিলো না, আর ঐসব মোটা মোটা পূজাবার্ষিকীগুলোও সঙ্গে করে নিয়ে আসা সম্ভব হয় নি। আশা করবো আগ্রহী পাঠকেরা এই ভুল-ত্রুটি টুকু ক্ষমা-ঘেন্না করেই এগুলো যত্ন নিয়ে পড়বে, আর আমার মতোই 'বগলামামা'-কে ভালোবেসে উঠবে।
দেব সাহিত্য কুটীরের পূজাবার্ষিকীতে প্রকাশিত বগলামামার গল্পের তালিকা:
১. বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল - নীহারিকা (১৩৭২)
২. নবরত্ন - ঝড় জল বৃষ্টি (১৩৭২)
৩. শিকারী বগলামামা - অরুণাচল (১৩৭৩)
৪. মধ্যমণি - বেণুবীনা (১৩৭৪)
৫. ওস্তাদের মার - মনিহার (১৩৭৭)
৬. ডিটেকটিভ বগলামামা - উদ্বোধন (১৩৭৮)
৭. বগলামামার সম্পত্তি লাভ - পূরবী (১৩৭৯)
৮. বগলামামা ভার্সেস ড্রাকুলা - তপোবন (১৩৮০)
৯. ছোটমামা জিন্দাবাদ - মণিদীপা (১৩৮১)
১০. বগলামামা দি ষ্টার - বলাকা (১৩৮২)
১১. গুপ্তধনের সন্ধানে বগলামামা - আগমনী (১৩৮৩)
১২. বগলামামা যুগ যুগ জিয়ো! - মন্দিরা (১৩৮৪)
১৩. জিয়া ঘাবড়াকে - চন্দনা (১৩৮৫)
১৪. ধুম ধাড়াক্কা
শুরু করলাম 'নবরত্ন' গল্পটি দিয়ে - এটি প্রথম প্রকাশিত হয়েছিলো 'ঝড় জল বৃষ্টি' নামে রাজকুমার মৈত্রের এক সংকলনে, 'মহালয়া ১৩৭২' সালে । দ্বিতীয় গল্প "বগলামামা দি ষ্টার" প্রকাশিত হয়েছিলো 'বলাকা' পূজাবার্ষিকীতে, ১৩৮২ সালে । অদ্ভুত ভাবে এই দ্বিতীয় গল্পটির সাথে 'নবরত্ন' গল্পটির প্রচুর মিল আছে। আমি জানি না কেন যে লেখক দুটো প্রায়-একই গল্প আলাদা আলাদা নামে দু'বার প্রকাশ করেছিলেন! প্রথম গল্পটির ছবিগুলির অলঙ্করণ করেছিলেন শ্রদ্ধেয় বলাইবন্ধু রায়, আর দ্বিতীয়টির নারায়ন দেবনাথ মহাশয়।
তৃতীয় গল্প হিসাবে 'ছোটমামা জিন্দাবাদ' গল্পটি আপলোড করলাম, যদিও আমার পছন্দের তালিকায় এটি একদম উপরের দিকে থাকবে। এই গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিল 'মণিদীপা' পূজাবার্ষিকীতে, ১৩৮১ সালে। সেই ছোটবেলা থেকে কতোবার যে এই গল্পটি পড়েছি, তা গুনে শেষ করা যাবে না। এর একটা কারণ হয়তো 'ছোটমামা'-র মতো একটি দূর্লভ, ক্ষ্যাপাটে চরিত্র আমাদের পরিবারের মধ্যেই ছিলো !!
এই পূজাবার্ষিকীটির সাথে সামান্য একটু মজার ঘটনাও জুড়ে আছে। সেই ছোটবেলাতে আমার ছোটদির এক closed স্কুলফ্রেন্ডের নামও ছিলো 'মণিদীপা'। তাদের বাড়িতে ছোটদি যাবার সময় আমাকে নিয়ে যেতে চাইলে আমি এক কথাতেই রাজি হয়ে যেতাম। এর প্রধান কারণ তাদের বাড়িতে একটা ইয়া মোটা, গোলগাল সাদা কাবুলি বিড়াল ছিলো, যার সাথে আমি গিয়ে খুব করে খেলতাম - অনেকবার আমি সে বিড়ালের আঁচড়-কামড়ও খেয়েছি। এই মণিদীপা ছিলো, যাকে বলে রীতিমত সুন্দরী। সে আমার মাথার মধ্যে কেমন করে না-জানি ঢুকিয়ে দিয়েছিলো যে তার নামেই দেব সাহিত্য কুটির এই পূজাবার্ষিকীটির নামকরণ করেছিলো!! বহুদিন পর্যন্ত এই কথা আমি আমার বন্ধুদেরকে গর্বের সাথে বলে বলে বেড়িয়েছিলাম !! পরে বড়ো হয়ে যাবার পর মণিদীপা-দির সাথে দেখা হলেই আমরা এই প্রসঙ্গ উত্থাপন করে দুজনে মিলে খুব হাসতাম।
এই সিরিজের চতুর্থ গল্প হলো 'বুনো ওল আর বাঘা তেঁতুল' - প্রকাশিত হয়েছিল 'নীহারিকা' পূজাবার্ষিকীতে, ১৩৭২ সালের পূজার সময়। আমার জানা বা পড়া মতো এটাই রাজকুমার মৈত্রের প্রথম বগলামামার অভিযান। অ্যাতো মারাত্মক হাসির গল্প আমি জীবনে খুব কমই পড়েছি।
![]() |
| দেব সাহিত্য কুটীরের অরুণাচল (১৩৭৩) পূজাবার্ষিকীতে প্রকাশিত গল্প |
বুনো ওলের সাথে পরিচয় আমার সেই ছোটবেলায়, আমাদের বাগানেই অনেক হতো। তবে খুব গুঁতোয় না পড়লে সেই ওল সাধারনত: খাওয়া হতোনা। পাতের একধারে তেঁতুলের আচার নিয়ে তবে খাওয়া শুরু করতে হতো। জীবনে একবারই খেয়েছিলাম, 'ওল-ভাতে' - তারপরে গলা অ্যাতো চুলকাতে শুরু করেছিলো যে তেঁতুল কেন, গোটা পাতিলেবুর রস খেয়েও কিছু সুবিধা হয় নি। সেই থেকে জীবনে আর কখনো 'বাগানের ওল' ট্রাই করার কথা মাথায় আনিনি !!
![]() |
| দেব সাহিত্য কুটীরের নীহারিকা (১৩৭২) পূজাবার্ষিকীতে প্রকাশিত গল্প |
শিকারী বগলামামা গল্পটি প্রকাশিত হয়েছিলো 'অরুণাচল' পূজাবার্ষিকীতে ১৩৭৩ সালে। গল্পটির অবস্থা বড়োই করুণ ছিলো - দুই পাতার মাঝের অংশগুলো প্রায় বোঝাই যাচ্ছিলো না। তাই সেগুলোকে প্রায় হাতে-এডিট করে তবে গল্পটি আপলোড করেছিলাম। এর বেশ কয়েকবছর বাদে আমি 'নীহারিকা' পূজাবার্ষিকীটির রি-প্রিন্ট ভার্সনটি আবার কিনে এনে নতুন করে স্ক্যান করে আপলোড করলাম। এটাও একটি দারুণ মজার গল্প - আশা করি সবারই খুব ভালো লাগবে এটিকে।
ঢাক বলে, - চিঁড়ে আন চিঁড়ে আন
গুড়গুড় গুড় দে-দ্দেই, দে-দ্দেই।
খঞ্জনা বলে, - মাক চাক, মাক চাক, মাক চাক।
কাঁসরঘন্টা বলে, - দক্ষিণা সমন্ধে ছ আনা দশ আনা
ছ আনা দশ আনা...
না - এটা কোন আবোল-তাবোল, পাগলের প্রলাপ নয় ! এটা হলো আমাদের অতি-পরিচিত, প্রিয় বগলা মামার ভাষায় বলা 'ঢাকের বাদ্যির' বোল !! পূজা তো প্রায় এসে গেলো - তাই সাথে সাথে ফিরে এলো বগলা মামার আরেকটি দারুণ মজার গল্প।
১৩৭৯-র পূজার সময় 'পূরবী' পূজাবার্ষিকীতে প্রকাশিত হলো বগলামামার নতুন অভিযান, "বগলা মামার সম্পত্তি লাভ"। একরাশ নির্মল হাসি ও কৌতুকে ভরা এই গল্পটির অবস্থাও বড়োই করুণ ছিলো - দুই পাতার মাঝের অংশগুলো প্রায় অস্পষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। একের পর এক পাতা হাতে-এডিট করে তবে গল্পটি আপলোড করতে হলো। এটাও একটি দারুণ মজার গল্প - আশা করি সবারই খুব ভালো লাগবে।
বগলামামার এই গল্পটি কোন পূজাবার্ষিকীতে প্রকাশিত হয়েছিলো তা আমার জানা নেই । সম্প্রতি দেব সাহিত্য কুটীর থেকে বগলামামার সবক'টি গল্প নিয়ে একটি সমগ্র প্রকাশিত হয়েছে - সেই সমগ্র থেকেই এই বাদ পড়ে যাওয়া কাহিনীটি দেওয়া হলো।
বগলামামা সিরিজের বাকি (তিনটি) গল্পগুলো আপাতত: মূলতবী রাখতে হছে কারণ সেগুলোর স্ক্যান কোয়ালিটি যথেষ্ঠই খারাপ। বাঁধানো বই থেকে জেরক্স করা হয়েছিলো বলে দুই পাতার মাঝখানের অংশের লেখা একেবারেই বোঝা যাচ্ছে না !! দেখা যাক অন্য কোনো ভাবে এই বাকী গল্পগুলোকে যোগাড় করা যায় কি না।
আপাতত: মন খারাপের সাথেই এই সিরিজটি pause করে দিতে বাধ্য হচ্ছি রাজকুমার মৈত্রের লেখা 'বাড়ি থেকে পালিয়ে' গল্পটি দিয়ে। যদিও এই গল্পটির সাথে বগলামামার গল্পের তেমন কোন মিল নেই, কিন্তু এটিও একটি কিশোর-অ্যাডভেঞ্চার মূলক কাহিনী - আর এখানেও এক 'ছোটোমামা' জড়িয়ে রয়েছে।
বাড়ি থেকে পালিয়ে যাবার ইচ্ছা তো আমাদের সবারই হয়ে থাকে - অন্তত: কোনো না কোন সময়ে তো বটেই !!
১. নবরত্ন (ঝড় জল বৃষ্টি, ১৩৭২) - ডাউনলোড লিংক: ক্লিক করুন এখানে (18 MB)
২. বগলামামা দি ষ্টার (বলাকা, ১৩৮২) - ডাউনলোড লিংক: ক্লিক করুন এখানে (47 MB)
৮. মধ্যমণি (বেণুবীণা, ১৩৭৪) - ডাউনলোড লিংক: ক্লিক করুন এখানে (14.1 MB)
১১. বগলামামা যুগ যুগ জিয়ো! (মন্দিরা, ১৩৮৪) - ডাউনলোড লিংক: ক্লিক করুন এখানে (24.2 MB)
১৩. ওস্তাদের মার (মণিহার, ১৩৭৭) - ডাউনলোড লিংক: ক্লিক করুন এখানে (14 MB)
১৪. ধুম ধাড়াক্কা - ডাউনলোড লিংক: ক্লিক করুন এখানে (14 MB)
~~~ * ~~~ * ~~~
*************************
ডিসেম্বর-2015 আপডেট: বগলামামা ফিরে এলো আবার - সঙ্গে নিয়ে বেশ কিছু দুর্লভ, দারুন হাসির মজাদার সব অ্যাডভেঞ্চার!!!
*************************
*************************
জুলাই-2022 আপডেট: বগলামামার আরেকটি দমফাটা হাসির মজাদার অ্যাডভেঞ্চার!!!
*************************








