আমার ছোটোবেলায় এখনকার মতো সায়েন্স ফিকশন মূলক গল্প, কমিকস বা অ্যানিমেশান ম্যুভির আধিক্য একেবারেই ছিলো না। হাতে গোনা যে ক'টি সায়েন্স ফিকশন গল্প সেই বয়সে পড়েছিলাম তার মধ্যে বেশ ভালো লাগতো 'টাইম ট্রাভেল' সম্পর্কিত গল্পগুলো পড়তে। এরপরেই ভালো লাগতো ওষুধ বা কোনো কিছুর প্রভাবে হঠাৎ করে ক্ষুদে হয়ে যাওয়া মানুষের কীর্তি-কাহিনী পড়তে। 'টাইম ট্রাভেল' নিয়ে একটা বড়সড় নিবন্ধ লেখার ইচ্ছা অনেকদিন ধরেই মনে মনে পুষে বেড়াচ্ছি, তবে আমাদের আজকের এই পোস্ট হলো হঠাৎ করে ক্ষুদে হয়ে যাওয়া মানুষের কীর্তিকলাপ নিয়ে।
কমিকসের মধ্যে প্রথম কোথায় এই ধরণের গল্প পড়েছি তা এই মুহুর্তে সঠিকভাবে মনে আসছে না। তবে বহুবছর আগে দেব সাহিত্য কুটিরের এক পূজাবার্ষিকীতে 'শ্রী নারায়ন দেবনাথ' রচিত ও অঙ্কিত এই ধরনের ছোট্ট একটি ছবিতে গল্প পড়েছিলাম। সেটিই খুব সম্ভবত: ক্ষুদে মানুষদের নিয়ে পড়া আমার প্রথম কমিকস।
 |
| 'পূরবী' পূজাবার্ষিকীতে প্রকাশিত চিত্র কাহিনী: 'গল্প না সত্যি !' |
ইন্টারনেটের কর্মদক্ষতার সাহায্যে খোঁজ নিয়ে পেয়ে গেলাম সেই হারানো গল্পটিকে, নাম ছিলো: "গল্প না সত্যি !" - প্রকাশিত হয়েছিল 1972 সালের "পূরবী" পূজাবার্ষিকীতে। সেই গল্পটিতে অবশ্য গল্পের নায়ক ('গোকুল') তন্দ্রাবশবর্তী হয়ে চলে গিয়েছিলো এক অদ্ভুত স্বপ্নের জগতে, যেখানে সে হয়ে যায় এক্কেবারে পুতুলের মতো ছোট্ট একটি মানুষ। নানান বিক্ষিপ্ত ঘটনার মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে হঠাৎ করেই তার তন্দ্রা একসময় কেটে যায়, আর সে ফিরে আসে বাস্তব জগতে। গল্পটি এই পরিনত বয়সে আবার নতুন করে পড়লে হয়তো খুব আহামরি কিছু লাগবে না, কিন্তু মনে আছে সেই বয়সে পড়ে আমি অভিভূত হয়ে গিয়েছিলাম। বিশেষ করে গল্পটিতে আঁকা পাখিটির সাথে আমাদের বাড়িতে যত্রতত্র ঘুরে বেড়ানো চড়াই পাখিগুলির অস্বাভাবিক মিল খোঁজা শুরু করে দিয়েছিলাম।
তখনকার দিনে প্রকাশিত ইন্দ্রজাল কমিকসের বেতাল বা অরন্যদেবের বেশ কিছু গল্পতেও এরকম ক্ষুদে মানুষের খোঁজ মিলতো। তাদের মধ্যে যেটির কথা সর্বপ্রথম মনে আসে সেটি হলো "বেতাল ও ক্ষুদে মানুষ" - সেই গল্পটিতে দেখা যায় রহস্যময় ক্ষুদে মানুষদের রাজকুমার, 'ভ্লাড'-এর প্রেমিকা ('মেলোডী') ধরা পড়ে যায় এক লোভী ব্যারণের খপ্পরে। বেতাল নিজের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে অবশেষে সেই বন্দী রাজকুমারীকে উদ্ধার করে। এরকম মিষ্টি অথচ রোমাঞ্চকর কমিকস সেই বয়সে খুব বেশি একটা পড়িনি।
 |
| Phantom# 205 - The Little People |
এবার চলে আসি ছায়াছবির জগতে - অ্যানিমেশান ম্যুভিগুলির মধ্যে প্রথম এই ধরনের যে সিনেমাটি দেখে দারুন মজা পেয়েছিলাম সেটি হলো "Honey, I Shrunk the Kids (1989)"। হারিয়ে যাওয়া বেসবল খোঁজার জন্যে বিজ্ঞানী ওয়েনের ল্যাবে ঢুকে পড়ে একদল বাচ্চা ছেলেপুলে। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত তারা ওয়েনের সৃষ্ট 'Shrink Ray'-র প্রভাবে সঙ্কুচিত হয়ে পরিনত হয় এক ইঞ্চিরও কম লম্বা, ক্ষুদে ক্ষুদে মানুষে। এদিকে বিজ্ঞানী ওয়েন ল্যাবে ফিরে এসে, অ্যাতোসব কিছু না-জেনেশুনেই সেই যন্ত্রটিকে রাগ করে ধ্বংস করে ফেলেন। অত:পর সেই ক্ষুদে হয়ে যাওয়া ছেলেপুলের দল কি করে আবার তাদের বাস্তব জগতে স্বমহিমায় ফিরে আসবে, সেই নিয়েই আদ্যন্ত টানটান উত্তেজনায় ভরা এই ম্যুভিটি। এটি সে'সময়ে অ্যাতোটাই পপুলার হয়েছিলো যে পরে এর বেশ কয়েকটা sequel-ও বানানো হয়।
পরবর্তীকালে আরো বেশ কিছু অ্যানিমেশান ম্যুভি দেখেছিলাম এইরকম ক্ষুদে প্রাণীদের নিয়ে - যেমন ANTZ, A Bug's Life, Toy Story, ইত্যাদি - সবগুলিকে এখানে উল্লেখ করতে গেলে অনেক সময় লেগে যাবে। তবে যেটির কথা না-বললেই নয়, সেটি হলো প্রখ্যাত ডিরেক্টর Chris Wedge-এর ম্যুভি 'EPIC' (2013) - অফুরন্ত মজা, আদ্যন্ত টানটান উত্তেজনা ও অ্যাডভেঞ্চারে ভরপুর এরকম অসাধারণ ফ্যামিলি-ম্যুভি খুব একটা বেশী হয় না। অ্যানিমেশান ম্যুভি প্রেমিকেরা, যাঁরা এই সিনেমাটি এখনও দেখেন নি, তাঁরা যে কি মিস করছেন, তা নিজেরাও জানেন না।
 |
| 'EPIC' Movie (2013) |
"EPIC" হলো William Joyce-এর ছোটোদের জন্যে লেখা বই "The Leaf Men and the Brave Good Bugs" অবলম্বনে করা এক অসাধারণ অ্যানিমেটেড CGI movie - গল্পটিতে একটি teenage মেয়ে একেবারে ছোট্টটি হয়ে গিয়ে চলে যায় সাধারণ মানুষের অগোচরে থাকা পাখিদের গোপন জগতে। সেই দুনিয়াতেও ঘটে চলে ভালো ও মন্দের অবিরাম লড়াই। একের পর এক নানান দু:সাহসিক ঘটনা-দূর্ঘটনার মধ্যে দিয়ে অবশেষে হয় মন্দের পরাজয়, আর নায়িকাও ফিরে আসে তার বাস্তব জগতে - সশরীরে, স্বমহিমাতেই।
এই পোস্টের সাইজ আর না-বাড়িয়ে অত:পর চলে আসি এ সপ্তাহের গল্পে। এটিও হলো ক্ষুদে হয়ে যাওয়া এক মানুষের গল্প। তবে এই গল্পে কুটিল বুদ্ধির ইজনোগুড চায় এক জাদু পানীয়ের সাহায্যে খলিফাকে সঙ্কুচিত করে নিজের পকেটে পুরতে, কিন্তু কপালের ফেরে সে নিজেই হয়ে যায় সংকুচিত !!
এই শুভ দেবীপক্ষে চলুন শুরু করা যাক ইজনোগুডের আরেক নয়া অ্যাডভেঞ্চার...
 |
ইজনোগুড ও জাদু পানীয় (Size: 15 MB) |