Showing posts with label অলাতচক্র - তারাদাস বন্দোপাধ্যায়. Show all posts
Showing posts with label অলাতচক্র - তারাদাস বন্দোপাধ্যায়. Show all posts

Saturday, November 15, 2014

অলাতচক্র - তারাদাস বন্দোপাধ্যায়

নিখিল ব্রহ্মান্ডের সৃষ্টিরহস্যের কার্যকারণ যতদিন আমাদের কাছে অজানা থাকবে, ততদিনই আত্মা, পরলোক, এবং দৈবীশক্তি সমন্ধে মানুষের বিশ্বাস অনড় ও অচল থেকে যাবে। কতিপয় ব্যক্তি বিজ্ঞাননির্ভর হয়ে অবিশ্বাসে সব কিছু উড়িয়ে দিতে পারেন, তবু দেখা গেছে চরম বিপদে বা সংকটে সেই সব মানুষই দৈবীশক্তির ওপর ভরসা করেছেন। 'অলাতচক্র' গন্থের পটভূমি এই অলৌকিক বা আধিদৈবিক ঘটনার উপর দাঁড়িয়ে। মূল চরিত্র তারানাথ, যাকে পাঠকেরা তারানাথ তান্ত্রিক বলে জানেন অনেক আগে থেকেই।  তাঁর কিছু দৈবীশক্তি আর্জিত হয়েছিলো। কিন্তু তিনি দেখেছেন তাঁর চেয়েও শক্তিসম্পন্ন মানুষ। এঁদের অভিজ্ঞতা এবং সহযোগিতা গ্রন্থের কাহিনী-কথককে কীভাবে আবিষ্ট করেছে এবং রক্ষা করেছে নানা বিপদ থেকে তারই মনোমুগ্ধকর, কখনও বা রোমহর্ষক বিবরণ এই 'অলাতচক্র' গ্রন্থটি। 


লেখক তারাদাস বন্দোপাধ্যায় হলেন বিখ্যাত কথাসাহিত্যিক বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের সুযোগ্য পুত্র। 
তারাদাস বন্দোপাধ্যায় (১৯৪৭ - ২০১০)

তারাদাস বন্দোপাধ্যায়ের জন্ম হয়েছিলো মাতুলালয়ে, ব্যারাকপুরে। তাঁর  বাল্যকাল কেটেছিলো পিতা বিভূতিভূষণের সাথে ইচ্ছামতী-তীরের বনগ্রাম শহরের কাছে এক গ্রামে - সেই গ্রামের নামও ছিলো 'ব্যারাকপুর'। বিহারের সিংভূম জেলার ঘাটশিলাতেও তিনি ছিলেন বেশ কিছু সময়। 

২০০০ সালের পুজোর সময় দিল্লিতে ডাক্তার দেখাতে গিয়ে বঙ্গভবনে বসে লেখক শুরু করেছিলেন এই কাহিনীটি। মাত্র চারটি অধ্যায় লেখার পর তিনি করোনারি বাইপাস অপারেশনের জন্য হাসপাতালে ভর্তি হন। অনেক ভোগার পর তিনি একসময় সেরে উঠলেন বটে, কিন্তু রোগের নানান জটিলতার কারণে, তিনি নিজে বসে আর লিখতে পারলেন না। তাই তিনি তখন মুখে বলে যেতেন, আর তাঁর সুযোগ্য স্ত্রী 'মিত্রা বন্দোপাধ্যায়' শ্রুতিলিখন নিতেন। 'কথাসাহিত্য' পত্রিকায় ২০০০-এর ডিসেম্বর থেকে ২০০৩-এর জানুয়ারী পর্যন্ত 'অলাতচক্র' প্রকাশিত হয়েছিলো। 


কবেকার সেই সুদূর অতীতে বিভূতিভূষণ বন্দোপাধ্যায়ের লেখা 'তারানাথ তান্ত্রিক'-এর গল্প প্রথম পড়ে চমকে উঠেছিলাম সেই গল্পের মধ্যে লেখকের নিজস্ব, বাস্তব অভিজ্ঞতার ছোঁয়া পেয়ে। তারানাথ তান্ত্রিককে আমার কোনও কল্পনার চরিত্র বলে কখনোই মনে হয়নি -  বরং আমার দৃড় বিশ্বাস তা লেখকের জানা-শোনা, খুব কাছেরই কোনো এক চরিত্র। গল্পে বর্ণনার কারণেই লেখক সামান্য অদল-বদল করে তাকে পাঠকদের কাছে তুলে ধরেছিলেন। 

অলৌকিক এবং অতিলৌকিক ঘটনার দিন শেষ হয়ে যায় নি, কেবল অনেক সময় আমরা তাদের অলৌকিক বলে আর চিনে নিতে পারি না - এই যা। প্রখ্যাত সায়েন্টিস্ট জে. বি. এস. হ্যালডেন বলেছিলেন - সত্য যে কল্পনার চেয়েও বিচিত্র শুধু তাই নয়, আমাদের কল্পনা যতদূর পৌঁছয় সত্য তার চেয়েও অদ্ভুত [ "I have no doubt that in reality the future will be vastly more surprising than anything I can imagine. Now my own suspicion is that the Universe is not only queerer than we suppose, but queerer than we can suppose..."] 

'অলাতচক্র' কাহিনীটি আমি অনেক অনুসন্ধানের পরও এখনো পর্যন্ত কোনো ব্লগে দেখতে পাইনি। তাই শেষমেষ, ঝোঁকের বশে কলকাতা থেকেই এই বইটি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললাম। বইয়ের মূল্যের থেকে, বই পাঠানোর ডাক-মাশুল পড়লো প্রায় পাঁচগুন বেশী!! কিন্তু বইটি এক নিশ্বাসে শেষ করার পর আমি বুঝলাম যে ভুল কিছু আমি করিনি। ভালো জিনিস সবার সাথে শেয়ার করার মজা হয়তো আমার কাছে অন্যরকম, তাই সেই বই থেকে প্রথম কয়েকটি পর্ব এখানে আপলোড করলাম - ভালো লাগলে বাকী পর্বগুলোও দেওয়া যাবে। অতিলৌকিক ঘটনার ঘনঘটায় ভরপুর এই গল্প হয়তো আমার মতো অনেক পাঠকেরই ভালো লাগবে - আর তাতেই হবে আমার এই ক্ষুদ্র প্রচেষ্টার সার্থকতা। 


১)  অলাতচক্র (১ - ৩ পর্ব)
২)  অলাতচক্র (৪ - ৭ পর্ব)
৩)  অলাতচক্র (৮ - ১৪ পর্ব)
৪)  অলাতচক্র (১৫ - শেষ পর্ব)