Showing posts with label টিনটিন. Show all posts
Showing posts with label টিনটিন. Show all posts

Friday, August 12, 2016

অজানা টিনটিন - অজগরের মুখোমুখি

ছবির গল্প পড়ে ভয় পাওয়ার ব্যাপারটা প্রথম শুরু হয়েছিলো টিনটিনের "মমির অভিশাপ"-এর সেই দুর্ধর্ষ চরিত্র 'রাসকার কাপাক"-কে দেখে। সেই সময়ে ঘুমের মাঝেও অনেকবার (দু:)স্বপ্ন দেখে চমকে গিয়ে জেগে উঠতাম। মন্ত্রবলে মানুষকে অবশ করে দেওয়ার ঘটনা অবশ্য বেতালের (তান্ত্রিক হুগান) কাহিনীতেও আছে, কিন্তু সেখানে গা-ছমছমের কোনও ব্যাপার ছিল না। ময়ূখ চৌধুরীর "আগন্তুক" পড়েও কিছুটা রোমাঞ্চ জেগেছিলো, কিন্তু সেটা রাসকার কাপাকের মতো করে নয়। ইনকাদের প্রতি নতুন করে আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছিলো টিনটিনের "সূর্য্যদেবের বন্দি"।       

ছোটবেলায় টিনটিন পড়তে গিয়ে "Ligne Claire" বলে যে কোনও কিছু থাকতে পারে সে বিষয়ে কোনও ধারনাই ছিলো না। কারণ গল্পগুলো অ্যাতোটাই টানটান আর আকর্ষণীয় ছিল যে কমিকস পড়ছি বলে মনেই হতো না। অনেকে বলেন যে আমাদের দেশের "টিম্পা"ও নাকি টিনটিনের মতোই আকর্ষণীয় চরিত্র - কিন্তু টিম্পার গল্প পড়ে আমার কখনোই আহামরি বলে মনে হয়নি। স্পীচ বাবলের আধিক্য যে কমিকসের ক্ষতি করে, সেটা অনেক কমিকস-লেখকই খেয়াল রাখেন না। টিনটিনের সাথে বরং একমাত্র সত্যজিৎ রায়ের গোয়েন্দা ফেলুদার অ্যাডভেঞ্চারগুলোকেই এক সারিতে রাখা যায়।


টিনটিন - অজগরের মুখোমুখি (২০১৫)

১৯৩৪ সালের আগের টিনটিন আর দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী কালের টিনটিনের মধ্যে বেশ পার্থক্য ছিলো। হার্জ এর চিন্তাধারার আমূল পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায় তরুণ টিনটিনের পরবর্তীকালের ভ্রমন কাহিনীগুলোতে। মজার ব্যাপার হলো টিনটিনের কাহিনীগুলি পড়ে কিন্তু বোঝা যায় না যে সে আসলে ইউরোপের কোন দেশের নাগরিক -  এমন কি সাংবাদিক টিনটিনের চরিত্রের মধ্যে বিশেষ কোনো ধর্মের প্রতি আনুগত্য খুঁজে পাওয়া যায় না। সময়ের সাথে তাল মিলিয়ে টিনটিনের শেষের দিকের অভিযানগুলো আরও তথ্যবহুল, পরিণত এবং মজাদার হয়ে উঠেছে। খুব জানতে ইচ্ছা করে যে আজ যদি হার্জ আমাদের মধ্যে বেঁচে থাকতেন তো টিনটিনকে তিনি একবিংশ শতাব্দীর কোন আন্তর্জাতিক ঘটনার মধ্যে নিয়ে গিয়ে ফেলতেন। 

টিনটিনকে নিয়ে করা স্পিলবার্গের অ্যানিমেশান ম্যুভি দেখেও আমার দারুণ লেগেছিলো, তবে আমি খুব আশা করেছিলাম যে প্রফেসর ক্যালকুলাসকেও সেখানে দেখতে পাবো। লালমোহন বাবু ছাড়া যেমন ফেলুদার কাহিনী অসম্পূর্ণ থেকে যায়, তেমনি প্রফেসর ক্যালকুলাস ছাড়া টিনটিনের গল্প ঠিক ভাবা যায় না। তবে স্পিলবার্গ তাঁর নিজের মতো করে টিনটিনের তিনটি গল্পকে একসাথে মিশিয়ে ম্যুভিটি তৈরী করেছিলেন, যেটা অনেক টিনটিন ভক্তরাই ভালো চোখে দেখেননি। তবে 3D অ্যাকশনে ভরা কাহিনীর গতি ছিলো বেশ আকর্ষণীয়, আর গ্রাফিক্স, শব্দ এবং অ্যানিমেশন নিয়ে কোনও কথা হবে না !!

~ ~ ~  *ঁ*  ~ ~ ~

আমাদের আজকের এই পোস্টে রইলো টিনটিনের এক ইন্দোনেশিয়ান  ভক্ত, কাকা রাই-এর লেখা ও আঁকা টিনটিনের আরেকটি নয়া অভিযান, "অজগরের মুখোমুখি" - তবে এই ধরণের সংক্ষিপ্ত গল্পগুলিকে হার্জের লেখা টিনটিনের মূল গল্পদের সাথে তুলনা করাটা উচিত হবে না, এগুলোকে স্রেফ ফ্যান-ফিকশান (pastiche) হিসাবে পড়াই ভালো ! 

এই গল্পে দেখা যায় যে মার্লিনস্পাইকে হঠাৎ করে এক বিশাল অজগর সাপের আবির্ভাব ঘটেছে - ঘটনাক্রমে সে জনসনকে গিলে খেয়ে ফেলার উপক্রম করেছে, এমন সময় কাকা রাই ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে, এক দারুণ উপায়ে সেই সাপকে ঘায়েল করে ফেলে...  কিভাবে ?  সেটা জানতে গেলে তো আমাদেরকে পড়তেই হবে টিনটিনের এই নয়া অভিযানটি। 

এই কমিকসটির প্রচ্ছদপট অলংকরণে সহায়তা করেছেন আমাদের সকলের প্রিয় রূপক ঘোষ মহাশয়। অনেক ধন্যবাদ ও প্রশংসা রইলো তাঁর জন্যে... 

Credits:
Script & Drawings: Kaka Rai
First Release (Blog): 2015
Translation: Kuntal & Rupak 
Baundule (7 MB)
অজগরের মুখোমুখি 
   (Size: 8.7 MB)

Saturday, August 6, 2016

অজানা টিনটিন - জাভাতে টিনটিন

আমার পড়া টিনটিনের প্রথম অ্যাডভেঞ্চার ছিলো "কাঁকড়া রহস্য", সৌজন্যে সেই বড়ো সাইজের "আনন্দমেলা" পত্রিকা। সেই বছরেই বাবার হাত ধরে আমি গুটি গুটি পায়ে হাজির হলাম গিয়ে ময়দানে, কলকাতা-বইমেলায়। মেলায় ঢুকে 'টিনটিনের বিজ্ঞাপন' সাঁটকানো এক ইংরেজী পাবলিশার্সের স্টলে ঢুকলাম - উদ্দেশ্য একটাই, টিনটিনের একটা নতুন বই কেনা। স্টলে ঢুকে দেখলাম বিশাল হলের ঠিক মাঝামাঝি জায়গায় একটা বড় টেবিলের সিংহভাগ জুড়ে স্তুপাকারে রাখা হয়েছে টিনটিনের বেশ কয়েকটি অ্যাডভেঞ্চার কমিকস - প্রতিটি গল্পের অন্তত: খান তিরিশেক করে কপি রয়েছে - পেপারব্যাক হলেও বাইন্ডিং বা পাতার কোয়ালিটি, কোনোটারই তুলনা হয়না। এক নিমেষে সেখান থেকে তুলে নিলাম "The Crab With The Golden Claws" কমিকসটা !! অথচ টিনটিনের এই গল্পটা আমার অলরেডি পড়া হয়ে গেছে - বস্তুত: টিনটিনের এই একটা গল্পই আমার সর্বসাকুল্যে পড়া, তবু কেন যে ঠিক সেইটাই আমি পকেটখালি করে কিনে ফেললাম, তার কোনো যুক্তিসম্মত ব্যাখ্যা দেওয়া সম্ভব নয় - এটাকেই হয়তো বলে 'যুক্তিহীন ভালোবাসা' সেই সময়ের ভারতীয় টাকায় ডলারের দাম ছিলো ১৮টাকার একটু বেশি - তাই, ওই একটা বই কিনতেই আমাদের দুজনের পকেটেরই বেশ করুন অবস্থা! বাবা তো প্রথমে বিশ্বাসই করতে পারেননি যে অ্যাতো টাকা ব্যয় করে আমি একটা সামান্য কমিকস বই কিনবো, কিন্তু আমার মুখচোখের অস্বাভাবিকতা দেখে আর না-বলতে পারেননি !!

বেশ কয়েক বছর বাদে এলো টিনটিনের দ্বিতীয় বই: "The Calculus Affair" - ঢাকুরিয়ার গোলপার্কের এক পুরানো বইয়ের দোকান থেকে, আশির দশকে - অনেক দর-কষাকষির পর দাম নিয়েছিলো ১৪টাকা। তখন ইংরেজী বইপড়ায় একেবারেই অভ্যস্ত ছিলাম না - অগত্যা A.T. Dev-এর গোদা ডিকশনারি সঙ্গে নিয়ে শুরু হয়েছিলো আমার ট্রান্সলেট করে করে টিনটিন পড়ে চলা। ক্যুইক রেফারেন্সের জন্যে অঙ্কের খাতা থেকে সাদা পাতা ছিঁড়ে ছিঁড়ে সেই কমিকস বইয়ের দু'পাতার মাঝে, আলাদা করে গুঁজে দিতাম। সেই সাদা পাতাতে লেখা থাকতো ওই দুই পাতার অজানা ইংরেজি শব্দগুলোর বাংলা মানে। ট্রান্সলেশনের ভূতটা হয়তো সেই তখন থেকেই আমার মাথার মধ্যে গেঁড়ে বসতে শুরু করেছিলো !!  ইতিমধ্যে ফেলুদার 'সোনার কেল্লা' বড়ো পর্দায় দেখে ফেলেছি - ট্রেনেতে বসে তোপসের টিনটিন পড়ে চলা দেখে আমিও বেজায় প্রভাবিত। তাই পুরী বেড়াতে যাবার সময় তোড়জোড় করে টিনটিনের কমিকস বইটি মলাট দিয়ে, সঙ্গে করে নিয়ে যাওয়া হলো, ট্রেনেতে পড়ার জন্যে। কিন্তু ট্রেনের ঝাঁকুনিতে পাছে বইয়ের অযত্ন হয়, এই আশঙ্কায় সেই বই আমি কোলে করে বসে, না-খুলেই সময় কাটিয়ে দিলাম - নিজেও পড়িনি, কাউকে পড়তেও দিই নি !!


জাভাতে টিনটিন
জাভাতে টিনটিন (২০১৫)
নিজের কথা ছেড়ে এবার আসা যাক একটু ইন্টারেস্টিং ব্যাপারে।  ইন্টারনেটের দৌলতে আজকাল টিনটিনের বেশীরভাগ 'টিপস/ট্রিভিয়া' ফ্রীতেই পড়তে পাওয়া যায়। এদের মধ্যে নিকোলাস স্যাবোরিন-এর সাইটটি ছিলো চমৎকার, কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত: সেটিকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জিম বেলা বলে এক ভদ্রলোক টিনটিনের বিভিন্ন বইয়েতে থাকা ছোটখাটো ভুল-ত্রুটিগুলো একসাথে জড়ো করে এক বিশাল তালিকা বানিয়েছেন। আগ্রহী পাঠকেরা ওখানে একবার ঢুঁ মেরে আসতে পারেন।

আর্টিস্ট হিসাবে হার্জ ছিলেন খুঁটিনাটি-ডিটেলেসের ব্যাপারে অসম্ভব মনোযোগী। কোনও গল্প শুরু করার আগে তিনি সেই গল্পের প্লট বা চরিত্রদের নিয়ে নানান রকম অ্যাঙ্গেল দিয়ে চিন্তা ভাবনা শুরু করে দিতেন। অজস্র ফটো, ছবির কাটিং সংগ্রহ করতেন, পরবর্তীকালে সেগুলোকে রেফারেন্স হিসাবে ব্যবহার করে ছবি আঁকতে। কিন্তু তা সত্ত্বেও কিছু কিছু ভুল অজান্তে তাঁর নজর এড়িয়ে গিয়েছিলো। 'মাইকেল ফার' তাঁর ‘Tintin - The Complete Companion’ বইতে এরকম বেশ কিছু প্রসঙ্গের উল্লেখ করেছেন। এগুলির মধ্যে একটি মজাদার ঘটনা উল্লেখ করে আমরা আজকের পোস্ট শেষ করবো।

'ফারাওয়ের চুরুট' প্রথমে বার হয়েছিল সাদা-কালো ভার্সনে - পরে যখন সেটিকে রঙিন এডিশনে বার করা হয়, ততদিনে টিনটিনের 'চন্দ্রলোকে অভিযান'-এর রঙিন এডিশনও প্রকাশিত হয়ে গেছে। আর সময়ের এই দোটানায় পড়ে গিয়ে হার্জ, একটা ক্রোনোলজিকাল 'কেলো' করে বসেন।
টিনটিন - ফারাওয়ের চুরুট
সময়ের দিক থেকে 'ফারাওয়ের চুরুট' হলো গিয়ে 'চন্দ্রলোকে অভিযান'-এর অনেক আগেকার গল্প, কিন্তু গল্পের পাতায় দেখা যায় যে শেখ "পাত্রাশ পাশা" টিনটিনকে তাদের চন্দ্র অভিযানের বইটাই দেখাচ্ছে !! সুতরাং প্রশ্ন হচ্ছে, ভবিষ্যতে হতে চলা চন্দ্র-অভিযানের বইটি ওই শেখের হাতে এলো কি করে ? 
~ ~ ~  *ঁ*  ~ ~ ~

আমাদের আজকের এই পোস্টে রইলো টিনটিনের এক ইন্দোনেশিয়ান অন্ধ ভক্ত কাকা রাই-এর লেখা ও আঁকা টিনটিনের আরো একটি নয়া অভিযান, "জাভাতে টিনটিন" - তবে এই ধরণের সংক্ষিপ্ত গল্পগুলিকে হার্জের লেখা টিনটিনের মূল গল্পদের সাথে তুলনা করাটা উচিত হবে না, এগুলোকে স্রেফ ফ্যান-ফিকশান (pastiche) হিসাবে পড়াই ভালো ! এই গল্পতে দেখা যায় যে টিনটিন ইন্দোনেশিয়ার সুবিখ্যাত জাভা আইল্যান্ডে বেড়াতে গিয়েছেন, এবং লেখক স্বয়ং টিনটিনের সাথে সাথে রয়েছেন, ঠিক যে রকমটি ভাবে আমরা আমাদের কিশোর বয়সে টিনটিনের সাথে মনে মনে রোল-প্লে করে খেলে চলতাম আর কি !! 

Credits:
Script & Drawings: Kaka Rai
First Release (Blog): 2015
Translation: Kuntal & Rupak 
Baundule (7 MB)
জাভাতে টিনটিন 
   (Size: 9.1 MB)

Friday, July 29, 2016

অজানা টিনটিন - মাশরুম কাণ্ড

"আনন্দমেলা" - নামটা শুনলেই সেই সুদূর অতীতের একরাশ ভালোলাগার কথা মনে এসে যায়, আর সেই ভালোলাগার উৎসমূলে দেখা যায় গেঁড়ে বসে আছে সহজ, সরল ভাষায় লেখা এক অসাধারণ কমিকস - টিনটিন!! আনন্দমেলা’র সূত্রেই মাতৃভাষায় টিনটিনের সাথে আপামর বাঙালীর প্রথম আলাপ। যদিও এই পত্রিকার জন্ম ১৯৭৫ সালে, কিন্তু প্রথম যখন টিনটিনকে হাতে পাই, তখন আমি ক্লাস ফাইভ কি সিক্সের ছাত্র। রুদ্ধশ্বাসে পড়ে চলতাম টিনটিনের ‘কাঁকড়া রহস্য’. 'মমির অভিশাপ', 'সূর্যদেবের বন্দি' - টিনটিন থেকে শুরু করে কুট্টুস, ক্যাপ্টেন হ্যাডক, জনসন-রনসন, প্রফেসর ক্যালকুলাস আমার মন জয় করে নিতে এক মুহূর্তও দেরী করেনি। সেই যে সেই প্রেমে পড়া, আজও অবধি সেই বেলজিয়ান সাহেব জর্জ র‍্যেমি, ওরফে হার্জে-র কমিকস-ম্যাজিকের মায়াজাল কেটে বার হতে পারলাম না - আর বাকি জীবনটুকুতেও যে পেরে উঠবো, সে ভরসাও খুব একটা দেখছি না !! টিনটিনের জন্যেই সেই সময়ে একটা ছোট্ট, সাদা কুকুরছানা পোষার জন্যে বাবা-র কাছে কি বায়নাই না করে ছিলাম! রাস্তাঘাটে টলে টলে চলা পাঁড় মাতালকে দেখেও ভালো লাগতো, স্রেফ ক্যাপ্টেনের কথা ভেবেই !!

আবার অন্যদিক দিয়ে দেখলে বলতেই হয় যে বাংলায় প্রকাশিত বোকা-বোকা, নিরামিষ কমিকসদের অসারত্ব চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছিলো এই টিনটিনই!! পাঠকমহলে টিনটিনের কমিকসগুলির লাগামহীন জনপ্রিয়তার মূলে ছিলো গল্পগুলিতে ঘটনার অভাবনীয় চমকপ্রদতা, চরিত্রদের বৈচিত্রতা, দুরন্ত সব পটভূমিকা, অসাধারন রসবোধ, তেমনি ডিটেলস ড্রয়িং, এবং ঘটনাবলীর নিঁখুত বর্ণনা - সুপারডুপার হিট না-হয়ে যায় কোথা !! তার সাথে জুড়ে ছিলো হার্জের অনবদ্য ‘লিনেউ ক্লেয়ার’ (Ligne Claire) স্টাইল। 

গোটা দুনিয়া জুড়ে প্রায় ৭০টিরও বেশী সংখ্যক ভাষায় টিনটিনের কমিকস প্রকাশিত হয়েছে - এমন কি রুপোলি পর্দাতেও টিনটিন ভীষণভাবে জনপ্রিয়। তবে অ্যামেরিকার বাজারে টিনটিন কখনোই জনপ্রিয় হয়ে উঠতে পারেনি, তার একটা কারণ যেমন ছিলো টিনটিন ইউরোপীয়ান (নাক-উঁচু), তেমনি অন্যদিকে সেই সময়ে, অর্থাৎ চল্লিশ থেকে ষাটের দশকে, অ্যামেরিকার কমিকস জগৎ তোলপাড় করে রেখেছিলো 'মার্ভেল" আর 'ডি.সি. কমিকস' থেকে প্রকাশিত হওয়া একগাদা দুর্দান্ত সব ক্যারেক্টার। তাই বাইরে থেকে আর নতুন করে কোনো কমিকস ক্যারেক্টার আমদানি করার দরকার অ্যামেরিকান পাঠকদের হয়ে ওঠেনি !! 

টিনটিনকে নিয়ে তার অগুন্তি ভক্তেরা যে কি অস্বাভাবিক ধরণের পাগলামো করে থাকে সেটা অন্য আরেক দিন বলা যাবে। আমাদের আজকের এই ছোট্ট পোস্টের উদ্দেশ্য হলো এমনই এক ভক্তের মাত্রাহীন ভালোবাসার কথা তুলে ধরা। 


অজানা টিনটিন - মাশরুম কাণ্ড
টিনটিন - মাশরুম কাণ্ড (2015)

কাকা রাই (Kaka Rai) হলেন একজন ইন্দোনেশিয়ান, গ্রাফিক ডিজাইনের ছাত্র, এবং টিনটিনের এক অন্ধ ভক্ত। টিনটিনকে নিয়ে তিনি বেশ কিছু ছোটো-খাটো কমিকস প্রকাশিত করে চলেছেন। গল্পের প্লট ও ছবি আঁকা, দুয়েরই দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন তিনি নিজেই। তবে এইসব সংক্ষিপ্ত গল্পগুলিকে কিন্তু হার্জের লেখা টিনটিনের মূল গল্পদের সাথে তুলনা করতে যাওয়াটা একটু বোকামিই হবে। তাঁর লেখা এই গল্পগুলির বৈশিষ্ট্য হলো যে প্রতিটি গল্পেই তিনি স্বয়ং নিজে টিনটিনের সাথে আছেন, ঠিক যে রকমটি ভাবে আমরা আমাদের কিশোর বয়সে টিনটিনের সাথে মনে মনে রোল-প্লে করে খেলে চলতাম আর কি !!

সেই রকমই একটি ছোটো গল্প আজ বাংলায় অনুবাদ করে এখানে দেওয়া হলো। এই কমিকসটির প্রচ্ছদপট অলংকরণে সহায়তা করেছেন আমাদের সকলের প্রিয় রূপক ঘোষ মহাশয়। অনেক ধন্যবাদ ও প্রশংসা রইলো তাঁর জন্যে... 

Credits:
Script & Drawings: Kaka Rai
First Release (Blog): 2015
Translation: Kuntal & Rupak 
Baundule (7 MB)
মাশরুম কাণ্ড - টিনটিন 
   (Size: 6.2 MB)