Showing posts with label অস্তাচলের পথে - সব্যসাচী. Show all posts
Showing posts with label অস্তাচলের পথে - সব্যসাচী. Show all posts

Sunday, November 30, 2014

অস্তাচলের পথে - সব্যসাচী

ছোটবেলায় আমাদের এলাকায় মোট দুটো পাবলিক লাইব্রেরী ছিলো। বাবা একটাতে মেম্বার হয়েছিলেন, আর আরেকটিতে মেম্বার ছিলেন আমার ছোটদা। বাবা ছিলেন দারুণ কর্মব্যস্ত মানুষ, তাই  খুব একটা লাইব্রেরীতে যাবার সময় করে উঠতে পারতেন না, তাই ছোটদা বা ছোটদি, আর পরবর্তী কালে আমি, সেই দুই লাইব্রেরী থেকে বই আনাআনি করতাম। প্রতি কার্ডে মাত্র দুটি করে বই ইস্যু করা হতো, এক সপ্তাহের মধ্যে পড়ে ফেরৎ দিতে হতো, না'হলেই ফাইন দিতে হতো। সেইসব বই যে শুধু আমরাই পড়তাম তা নয় - ছোটদা আর ছোটদির নানান বন্ধুরা, পরবর্তীকালে আমার বন্ধুরা, আমার ইংলিশের টিচার, এবং আরো অনেকেই। তাই মাঝে মধ্যেই বই ফেরৎ দিতে দিতে এক সপ্তাহের বেশি সময় লেগে ফাইন হয়ে যেতো, আর আমাদেরকেই সেই ফাইনের ভার বহন করতে হতো। তবু আমরা অন্যদেরকে বই পড়তে দিতাম - কেন যে দিতাম তা ঠিক এখনও আমি বুঝে উঠতে পারিনি - হয়তো বই-পড়ার আনন্দ সবার মধ্যে ভাগ করে নেবার সুপ্ত ইচ্ছাটা আমাদের বাড়ির প্রত্যকের মধ্যেই লুকিয়ে ছিলো।          


প্রকাশক: দেব সাহিত্য কুটীর 
ক্লাস ফাইভ থেকে আমি অন্য এক স্কুলে ভর্তি হই - সিক্স কি সেভেনে যখন পড়ি তখন দেখলাম আমার ক্লাসের ছোটখাটো চেহারার, শান্ত গোবেচারা টাইপের এক ক্লাসমেটকে সবাই খুব সমীহ করে চলছে। ব্যাপারখানা কিছুদিনের মধ্যেই জানা গেলো - তার কাছে প্রচুর গল্পের বই ছিলো, আর সে স্কুলে প্রতিদিনই কয়েকটি বই সঙ্গে করে নিয়ে আসতো। মূলত: স্বপনকুমারের কালনাগিনী/বাজপাখি সিরিজ, আর দেব সাহিত্য কুটিরের  ছোট ছোট গোয়েন্দা আর অ্যাডভেঞ্চার কাহিনীর বইগুলি।  সেই বইগুলি সে ক্লাস চলাকালীন পড়ার বইয়ের মধ্যে ভাঁজ করে রেখে লুকিয়ে লুকিয়ে পড়ে চলতো। তার স্নেহভাজনেরাও ভাগাভাগি করে এই সব গল্পবই পড়ার দূর্লভ সৌভাগ্য লাভ করতো

ফলত: কিছুদিনের মধ্যেই ক্লাসের মধ্যে তিনটে গ্রুপ হয়ে গেলো। মুষ্টিমেয় কিছু যারা ক্লাস চলাকালীন লুকিয়ে লুকিয়ে গল্পবই পড়ে - 'হা-ভাতে' গোছের আমরা অর্থাৎ যারা পড়তে চেয়েও পড়তে পাইনা - আর বাদবাকি ত্যাঁদোড় টাইপের কিছু, যারা টিচার সহ এই দুটো গ্রুপের কাউকেই তেমন কেয়ার করে চলেনা। তো একদিন সেই 'অভুক্ত', দ্বিতীয়-গ্রুপের কেউ একজন স্যারের কাছে বেনামী চিঠিতে জানিয়ে দিলো এই গুপ্ত বই সরবরাহের ব্যাপারখানা। ফলে যা হবার তাই হলো, একদিন ক্লাস চলাকালীন আমাদের ভূগোল স্যার একেবারে হাতে-নাতে ধরে ফেললেন 'পালের গোদা' আমার সেই ক্লাসমেটকে। সে তখন নিবিষ্ট চিত্তে একখানা গল্পের বই পড়ে চলেছিলো। স্যার বোধহয় এসেছিলেন প্ল্যান করেই, আর যায় কোথা!! কান ধরে তাকে ক্লাস থেকে হিড়-হিড় করে টেনে নিয়ে যাবার সময় দেখা গেল ভূগোল স্যারের হাতে ধরা রয়েছে দেব সাহিত্য কুটিরের একখানা গোয়েন্দা কাহিনীর বই, নাম 'অস্তাচলের পথে'।     

বইখানা স্যার টিচার্স রুমের এক ড্রয়ারে তালাবন্দী করে রেখে দিলেন। বিকট কান্নাকাটি জুড়ে দিয়েও সে শাস্তির হাত থেকে রেহাই পেলো না। অজস্র কানমলা, চড়-চাপড়ের সাথে সাথে তার বই বাজেয়াপ্ত তো হযে গেলোই, উল্টে তাকে ক্লাসের একদম প্রথম সারির বেঞ্চে বসার আদেশ দেওয়া হলো। যদিও আমি সেসময় তার স্নেহভাজন-গ্রুপে থাকার সৌভাগ্য লাভ করে উঠতে পারিনি, তবুও এক অদ্ভুত কারণে তার এই শাস্তির বহর দেখে আমার বেশ মন খারাপ হয়ে গেলো। বিশেষ করে তার সেই বই বাজেয়াপ্ত হয়ে যাবার ব্যাপারখানা আমাকে বেশ ব্যথিত করে তুলেছিলো। পরবর্তী কালে অবশ্য তার সাথে আমার ধীরে ধীরে ভালো বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছিলো, আর প্রচুর গল্পের বইও পড়েছিলাম তার সৌজন্যে।  

এই ব্লগে আমি সেই হারানো দিনের ডিটেকটিভ উপন্যাসটি পোস্ট করলাম। এটি অবশ্য পরবর্তীকালে দেব সাহিত্য কুটীর থেকে নতুন কলবরে প্রকাশিত প্রহেলিকা সিরিজের দ্বিতীয় সংকলনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই কাহিনীটি লিখে ছিলেন 'সব্যসাচী', অর্থাৎ আমাদের সবারই প্রিয়, শ্রদ্ধেয় শ্রী সুধীন্দ্রনাথ রাহা মহাশয়।  

অস্তাচলের পথে
(30.4 MB)