স্কুল আর সেই সময়্কার বন্ধুদের নিয়ে অসাধারণ সোনালি দিনগুলোর কথা যদি সামান্যও ভাবতে বসি, তাহলে ছেলেবেলার আর বাদবাকি যাবতীয় সুখের স্মৃতিরা ফিকে হয়ে যায়। আমাকে যদি কেউ কোনদিন একটা টাইম-মেশিন দেয়, তা'হলে আমি ঠিক চলে যাবো আমার সেই ফেলে আসা শৈশবে, যেখানে এখনো সেই আইসক্রীমওয়ালাটা তার সাইকেলের ক্যারিয়ারে আইসক্রীম-ভর্তি কাঠের, চারকোনা বাক্সটা বেঁধে আমাদের ছুটে আসার জন্যে অপেক্ষা করে চলেছে...
তবে শৈশব আর কৈশোরকে ছুঁতে পারার মধ্যেও এক অন্য ধরনের সুখ আছে। সময়ের যাঁতাকলে পড়ে আমরা যতোই দূরে সরে যাই ছোটবেলা থেকে, ততোই যেন মন আরও বেশি করে ফিরে পেতে চায় তাকে।

স্মৃতিপীড়ায় আনন্দ আছে যথেষ্ঠই - তাই ঘুমে-জাগরণে আমার সব ভ্রমণ কৈশোর-অভিমুখে। কিশোরবয়সে পড়া কিছু কিছু গল্প আমি আজও ভুলে উঠতে পারিনি। আজও নতুন করে পড়তে বসলে সেই কিশোর বয়সের রোমাঞ্চের আঁচ যেন অনেকটাই অনুভব করি। এইসব গল্প পড়তে পড়তে কল্পনার ডানায় ভর দিয়ে অনায়াসেই উড়ে যাই অন্য কোনো এক ভুবনে।
এইসব গল্পগুলোতে কোথাও অনর্থক কিশোরী চরিত্র এনে সুড়সুড়ি দেওয়া নেই - নেই ঘুঁষোঘুঁষি বা বন্দুক-পিস্তলের অহেতুক গর্জন। বরং আছে মানুষের চিরকালীন, শাশ্বত জীবনসত্য, যা পড়তে পড়তে পাঠকেরা অনেকেই ফিরে পাবেন তাঁদের হারানো ছেলেবেলা।
এই ব্লগে আমি সেই হারানো দিনের 'কিশোর বন্ধুত্ব' নিয়ে দুটি অসাধারণ গল্প পোস্ট করলাম। প্রথমটি, অর্থাৎ 'সিকেপিকেটিকে'-র লেখক হলেন আশুতোষ মুখোপাধ্যায়, আর পরেরটি, অর্থাৎ 'পেন্টাগন'-এর লেখক হলেন আমাদের সবারই অতি প্রিয় সঞ্জীব চট্টোপাধ্যায়। অসম্ভব ভালোলাগায় ভরপুর, মর্মস্পর্শী এই দুটি গল্প সবারই ভালো লাগবে।
![]() |
| সিকেপিকেটিকে ও পেন্টাগন |
