"এই দিন দিন নয়, আরও দিন আছে ,
এই দিনেরে নিয়ে যাবো, সেই দিনের কাছে..."
ছোটবেলায় দেখতাম বাবা আমাদের বাড়ির উঠানটার মাঝখানটায় মাদুরে বসে, একরাশ তারা-ভর্তি আকাশের নীচে হ্যারিকেনের আলোয় হারমোনিয়ামের বেলো টেনে টেনে, তাঁর খোলা, উদাত্ত গলায় গান গেয়ে চলেছেন: 'আমি দুরন্ত বৈশাখী ঝড়', 'মধুর আমার মায়ের হাসি', কিম্বা 'কারার ওই লৌহকপাট...', আরো কতো কি গান। স্রেফ হারমোনিয়াম আর সস্তার তবলার সঙ্গতে গাওয়া সেইসব গান শুনতে পাড়ার কতো লোক সপ্তাহান্তে সন্ধ্যা হলেই বাড়িতে এসে ভীড় করে বসে থাকতো। পরম করুণাময় ঈশ্বর আমার গলায় তাঁর মতো করে সুর ভ'রে দেন নি, কিন্তু সুরের মাধুর্য্য বোঝার ক্ষমতাটা সামান্য হলেও ঢুকিয়ে দিয়েছিলেন এই মোটা মাথাটায়। সেই সুরের হাত ধরে ধরেই একসময় চলে এসেছিলো সাহিত্যের প্রতি ভালোবাসা - সোজা বাংলায় যাকে বলে হয়ে উঠেছিলাম 'গল্প-উপন্যাসের পোকা'। পড়াশুনার শেষে কর্মব্যস্ত জীবনের ফাঁকে মাঝে মাঝে চেষ্টা করেছি নিজের মতো করে কিছু লিখতে - কিন্তু প্রিয় লেখকদের লেখার স্টাইল, কেমন করে না-জানি, আমার নিজের লেখার মধ্যে অজান্তেই ছড়িয়ে পড়তো। বাধ্য হয়ে একসময় লেখালেখি সব বন্ধ করে দিয়েছিলাম। প্রবাসে আসার বেশ কিছুকাল কেটে যাবার পর এখানকার গ্যাজেটে-ভরা যান্ত্রিক জীবনের প্রতি কিছুটা অনাসক্তি জাগার পরই আবার হাতে তুলে নিই 'কলম' - তবে, সত্যি করে বলতে 'কলম' নয়, স্রেফ ল্যাপটপের কি-বোর্ডে টাইপ করে গুগল ব্লগে কিছু কিছু করে 'আর্টিকেল' টাইপের লেখা জমাতে শুরু করি। তেমন কোনো নির্দিষ্ট বিষয় ছিলো না, যখন যেরকম মুড থাকতো, তার উপর ভিত্তি করে কিছু এদিক-সেদিক লেখা। তবে এইবারে আমি সতর্ক ছিলাম যাতে আমার প্রিয় সব লেখকদের, অর্থাৎ শীর্ষেন্দু-সঞ্জীব-তারাপদ-দুলেন্দ্র ভৌমিক আর হুমায়ুন আহমেদ-এর লেখার প্রভাব যেন আমার লেখার মধ্যে খুব বেশি করে ঢুকে না-পড়ে। ছোট ছোট আর্টিকেল লেখার সুবিধা হলো এটাকে নিজের খুশিমতো যেখানে ইচ্ছা সেখানে থামিয়ে দেওয়া যায়, আর প্রায় যে কোন বিষয় নিয়েই লেখা শুরু করা যায়। এইভাবে বেশ কিছু লেখা ধীরে ধীরে জমে উঠেছিলো আমার "ডাউন মেমরি লেন" ব্লগে। মাঝে মাঝে দেখতাম আমার চেনাজানা গুটিকতক বন্ধু-বান্ধব ছাড়াও, বেশ কিছু ই-পাঠকও সেইসব লেখা পড়ছে - কেউ কেউ তাদের মতামতও ইমেল করে জানাচ্ছে।
![]() |
| বে-এরিয়ার পশ্চিমী পুজা সংগঠনের 'অঞ্জলি' পূজা ম্যাগাজিন (2009, 2013, 2014) |
তাদের সেই পড়ার আগ্রহে ভরসা পেয়ে, অধিক-পঠিত আমার কয়েকটি আর্টিকেল আমি পাঠিয়ে দিই আমাদের এখানকার লোকাল দূর্গাপুজা সংগঠন ('পশ্চিমী')-র কাছে, তাদের বাৎসরিক পুজা-ম্যাগাজিনে ('অঞ্জলি') প্রকাশ করার জন্যে। মনোনীত যে হবেই তেমন কোনো প্রত্যাশাও ছিলো না, আর না-হলেও তেমন কিছু মনে করতাম না, কারণ এই লেখাগুলির প্রতি সত্যি বলতে কি তেমন করে নজর দেবার সময় পেয়ে উঠিনি। কাজের ফাঁকে ফাঁকে পাওয়া দু-চার ঘন্টার মধ্যে যে-টুকু লিখে ওঠা যায় আর কি ! কিন্তু, প্রতি বছর নিয়ম করে পাঠাতে না-পারলেও, যে'কটি বার পাঠিয়েছিলাম সৌভাগ্যক্রমে তাদের প্রতিটি লেখাই মনোনীত হয়ে যথাসময়ে তাদের প্রিন্টেড ম্যাগাজিনে স্থান করে নিয়েছিলো।
এই পোস্টে আমি সেইসব কিছু লেখা আপলোড করলাম। কিছুটা নিজের ব্যক্তিগত জীবনের কথা, কিছুটা স্যাট্যায়ার টাইপের লেখা, কিছুটা নিছক হাস্যরসে ভরা এই ছোট ছোট রচনাগুলি পড়তে খুব একটা খারাপ লাগবে না - এইটুকুই যা আশা !!
১. ছেঁড়া ঘুড়ি, রঙিন বল (2014) - ডাউনলোড লিংক: ক্লিক করুন এখানে (6 MB)
২. পুজা Sponsorship স্ট্র্যাটেজি (2013) - ডাউনলোড লিংক: ক্লিক করুন এখানে (14 MB)


