Showing posts with label সাধু কালাচাঁদের কীর্তিকলাপ - শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়. Show all posts
Showing posts with label সাধু কালাচাঁদের কীর্তিকলাপ - শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়. Show all posts

Monday, November 10, 2014

কালজয়ী বাংলা গল্পের দল - সাধু কালাচাঁদের কীর্তিকলাপ

 সাধু কালাচাঁদের সৃষ্টিকর্তা: শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় 
সাধু কালাচাঁদ শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় লিখতে শুরু করেন সত্তর দশকের শেষে।  তার আগে তিনি লিখেছেন 'ক্লাস সেভেনের মিস্টার ব্লেক' - লিখেছেন 'অগস্ত্যযাত্রা'। সাধু কালাচাঁদ-এর কয়েকটি কীর্তি-কাহিনী নিয়ে প্রথম সংকলনটি বার হয় 'তিনসঙ্গী' থেকে। নাম ছিলো 'সাধু কালাচাঁদ'। সে বই এখন আর পাওয়া যায় না। 

শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় বিশ্বাস করতেন ঘটিত সত্যই একমাত্র সত্য নয়। যা হলেও হতে পারে, এমনটিও শিল্পের সত্য। বাস্তবের সত্য আর শিল্পের সত্য পুরোপুরি আলাদা। নিজের যাবতীয় লেখালেখিতেই শ্যামলবাবু এই  বিষয়টিকে সামনে নিয়ে এসেছেন। 


'সাধু কালাচাঁদ'-এও দেখা যায় স্বপ্ন-বাস্তবের এক আশ্চর্য্য যাতায়াত। সাধু কালাচাঁদ থাকে ভৈরব নদীর ধারে একটি ছোট শহরে। সে পড়ে জুবিলি স্কুলে, ক্লাস সেভেনে - রোল ইলেভেন। গল্পের কোথাও লেখক 'খুলনা' শহরের কথা বলেন নি। কিন্তু ভৈরব নদী, তার বুকে লঞ্চ, নৌকো - এসব বর্ণনা পড়তে পড়তে শহর খুলনার ছবিই ভেসে ওঠে চোখের সামনে। 

'সাধু কালাচাঁদ'-এর বীজ কি লুকিয়ে ছিলো 'ক্লাস সেভেনের মিস্টার ব্লেক'-এর মধ্যে? কালাচাঁদের পূর্বসুরী বাংলা সাহিত্যে সম্ভবত একজনও নেই। খুব ক্ষীণ যোগাযোগ থাকলেও থাকতে পারে সুকুমার রায়ের পাগলা দাশুর সঙ্গে। কিন্তু সেই সম্পর্ক নেহাৎই 'গ্রাম-সম্পর্ক', নিশ্চিতভাবেই 'জ্ঞাতি-সম্পর্ক' নয়। 

শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় বিশ্বাস করতেন দৈবী পাগলামি ছাড়া শিল্প সৃষ্টি করা যায় না। সেই দৈবী পাগলামির বিচিত্র বর্ণালী তাঁর এই সব গল্পে, ছোট উপন্যাসে। সত্তর দশকের শেষের দিকে দেব সাহিত্য কুটিরের একটি পুজাবার্ষিকীতে প্রকাশিত হয়েছিলো কালাচাঁদের একটি বড় গল্প: 'সাধু কালাচাঁদের মেদিনীপুরাণ' - বাংলা ভাষায় এমন সুন্দর লেখা খুব অল্পই হয়েছে। সামনে ক্লাস টেনের প্রিটেস্ট। চন্দ্রগ্রহণের দিন চৈতন্যদেবের জন্মদিন। এইসব ঘটনা কোশ্চেন লিক করতে না-পারা কালাচাঁদকে বিবাগী করে তোলে। তখন সে মাথা কামিয়ে শ্রীচৈতন্যের পরিক্রমার রাস্তা ধরে, মেদিনীপুর হয়ে শ্রীক্ষেত্র-নীলাচলের দিকে পদব্রজে রওনা হতে চায় - অসাধারণ সুন্দর ছিলো সেই গল্পটি। 

এইসব গল্প পড়তে পড়তে কল্পনার ডানায় ভর দিয়ে অনায়াসেই উড়ে যাওয়া যায় অন্য কোনো এক ভুবনে। কোথাও অনর্থক কিশোরী চরিত্র এনে সুড়সুড়ি দেওয়া নেই - নেই ঘুঁষোঘুঁষি বা বন্দুক-পিস্তলের অহেতুক গর্জন। বরং আছে মানুষের চিরকালীন, শাশ্বত জীবন সত্য, যা পড়তে পড়তে পাঠকেরা অনেকেই ফিরে পাবেন তাঁদের হারানো ছেলেবেলা। যারা বড়ো হচ্ছে, পড়তে চাইছে বা তৈরী হয়েছে পড়ার অভ্যাস, সাধু কালাচাঁদ তাদের কাছে এক অমূল্য সম্পদ। 

'সাধু কালাচাঁদ সমগ্র'' বইটি প্রকাশের কথা ছিলো শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় বেঁচে থাকতে থাকতেই - কিন্তু একটু দেরীই হয়ে গিয়েছিলো। আজ শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায় আমাদের মধ্যে আর নেই - আবার আছেনও। কারণ কালাচাঁদ তো আছে - সাধু কালাচাঁদ চিরকালই বেঁচে থাকবে আমাদের মধ্যে।


এই ব্লগে আমি সেই হারানো দিনের 'সাধু কালাচাঁদের' দশটি ছোট গল্প দুটি পর্বে পোস্ট করলাম। সূক্ষ হাস্যরস, আর অসম্ভব ভালোলাগায় ভরপুর এই গল্পগুলো সবারই কম-বেশী ভালো লাগবে।  

সাধু কালাচাঁদ (১-৬)
সাধু কালাচাঁদ (৭-১০)